1. news.dailynobobarta@gmail.com : ডেইল নববার্তা : ডেইল নববার্তা
  2. udoyjuwelahmed@gmail.com : শহীদুর রহমান জুয়েল সিলেট ব্যুরো চীফ : শহীদুর রহমান জুয়েল সিলেট ব্যুরো চীফ
  3. rabbu4046@gmail.com : রাব্বু হক প্রধান আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : রাব্বু হক প্রধান আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি
  4. subrata6630@gmail.com : Subrata Deb Nath : Subrata Deb Nath
চাচা কাদেরের বিরুদ্ধে ভাতিজা মিজানকে ফাঁসানোর অভিযোগ | Dailynobobarta
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

চাচা কাদেরের বিরুদ্ধে ভাতিজা মিজানকে ফাঁসানোর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৫ বার পঠিত
চাচা কাদেরের বিরুদ্ধে ভাতিজা মিজানকে ফাঁসানোর অভিযোগ

রাজধানীর কদমতলীর মুরাদনগরের নিউ জনতা আয়রন মার্কেটের ৪৪১/১ এ লোহার ব্যবসা করেন এমএমএ কাদের মোল্লা। তাঁর ভাতিজা হোসেন মিজান আর্মি ঠিকাদার। ভাতিজাকে অফিসে ডেকে জিম্মি করে ৮টি চেক এবং তিনটি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন চাচা কাদের।

পরে একাধিক মামলা দিয়ে ভাতিজাকে হয়রানীর অভিযোগ রয়েছে কাদেরের বিরুদ্ধে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার হোসেন মিজান। এছাড়া এমএমএ কাদেরের বিরুদ্ধে দুটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন তিনি। কদমতলী থানার জিডি নং ৮১, তারিখ ০২-১১-২০ এবং জিডি নং নং ২৫২, তারিখ ০৪-০৩-২১।

অভিযোগ ও জিডি সুত্রে জানা যায়, এমএমএ কাদের মোল্লা লোহার ব্যবসা করেন। তিনি নির্মাণ গ্রুপের এমডি। কদমতলী মুরাদনগরের নিউ জনতা মার্কেটে ব্যবসার ঠিকানা। তিনি সেগুনবাগিচা নকশী টাওয়ারে এবং ভাটারার ১০০ ফিট এলাকায় বসবাস করেন। ভাতিজা হোসেন মিজানের ব্যবসার পার্টনার ছিলেন চাচা কাদের মোল্লা। ব্যবসায়ীক বিচ্ছেদ ঘটলেই ভাতিজাকে ফাঁসাতে শুরু হয় চাচার মামলার ফাঁদ। ভাতিজা হোসেন মিজান বাংলাদেশ আর্মি ঠিকাদার। তিনি ঢাকাতেই বসবাস করেন। পারিবারিক সম্পর্কে হোসেন মিজানের বাবার চাচাতো ভাই এই কাদের মোল্লা। ঢাকা এবং ভোলা জেলার আদালতে হোসেন মিজানের বিরুদ্ধে দায়ের করা এক মামলার স্বাক্ষীরা হয়েছেন অন্য একাধিক মামলার বাদী। নানা অভিযোগে পৃথক ১৩ মামলা দায়ের করে ভাতিজাকে ফাঁসাতে ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে সেই চাচা। বনিবনা না হওয়ায় চাচা-ভাতিজার ব্যবসায়ীক বিচ্ছেদ ঘটে। ভাতিজা হোসেন মিজানকে কৌশলে মুরাদনগরের অফিসে ডেকে নেয় চাচা কাদের। ওইদিন মিজানকে জিম্মি করে ৮টি চেক এবং তিনটি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয়।

পরে ভাতিজা মিজানের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন চাচা কাদের। এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় আদালতে প্রায় ৫১ কোটি টাকার পৃথক ৫টি সহ ঢাকার বিজ্ঞ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা নং ১৯৭/২০ (শ্যামপুর), একই আদালতে মামলা নং ২০০/২০ (শ্যামপুর), বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা নং ২৬/২১ (শ্যামপুর), একই আদালতে মামলা নং ২৭/২১ (শ্যামপুর), মামলা নং ২৯/২১, মামলা নং ১৭৫/২১ (রমনা) এবং মামলা নং ২৬৪/২০। সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে হোসেন মিজানের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা নং ৩৮/২১ দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন এমএমএ কাদের মোল্লা এবং তাঁর আত্মীয়রা।

লিখিত অভিযোগে হোসেন মিজান উল্লেখ করেন, ব্যবসার কাজে কাদের মোল্লার সঙ্গে মিজানের আর্থিক লেনদেন ছিল। যথাসময়ে ধার লেনদেন পরিশোধও করেছেন। কাদের মোল্লার ভাড়াটে ৭০/৮০জন সন্ত্রাসী হামলা করে মিজানের গ্রামের বাড়ি দখলের চেষ্টা করে। এসময় স্ট্রোক করেন হোসেন মিজানের পিতা ইয়াছিন মোল্লা। দুদিন পর তিনি মারা যান। পিতার মৃত্যুর কারণ হিসেবে কাদের মোল্লাকে দায়ী করছেন মিজান। তিনি জানান, ভোলার আদালতে দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে গিয়ে ষড়যন্ত্র খুঁজে পায় পুলিশ। মামলার ঘটনা অসত্য উল্লেখ করে আদালতে প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদন হোসেন মিজানের পক্ষে যাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অভিযোগ করেন কাদের মোল্লার সিন্ডিকেটের কথিত বাদী। এক মামলার স্বাক্ষীদের করা হয়েছে অন্য মামলার বাদী। চাচা কাদের মোল্লা নিজেই প্রস্তুত করে দেন মামলা। সাজানো আরেক ঘটনায় মামলার বাদী করা হয় ভোলার লালমোহনের রায়পুরাকান্দি এলাকার আলী আকবরের ছেলে মহিবুল্লাহ মোল্লাকে। তিনি কাদের মোল্লার ভাতিজা।

মামলার তদন্তে যদি সাজানো ঘটনা এবং ষড়যন্ত্র প্রকাশ পায় তাহলে বাদী ফেঁসে যাবেন এই শঙ্কায় ভোলার আদালতের কাছে ভুল স্বীকার করে মামলা তুলে নেন। এসব কথা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন মামলা নং জিআর ৪/২১ (লাল) বাদী মহিবুল্লাহ। উল্লেখ করেন, এক ভাতিজার স্ত্রীকে কথিত বাদী করে সাজানো ঘটনার বিবরণে নিজেই মামলা প্রস্তুত করে দেন কাদের মোল্লা। ভোলার নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে মামলা নং ৬১৪/২০ দায়ের করিয়েছেন। সেই মামলার তদন্তে গিয়ে ষড়যন্ত্র খুঁজে পায় পুলিশ। হোসেন মিজানকে ফাঁসাতে ফের কাদের মোল্লা তার ভাতিজা গিয়াস মোল্লাকে বাদী করে মামলা নং ১১২/২০ দায়ের করান। সেই মামলার তদন্তে ষড়যন্ত্র ফাঁস হয় এবং আদালতে প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদন হোসেন মিজানের পক্ষে যাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অভিযোগ করেন কথিত বাদী গিয়াস মোল্লা। এছাড়া কাদের মোল্লা তার ভাগিনা লোকমান মোল্লাকে বাদী করে মামলা নং ৬৯/২০, কালু মোল্লাকে বাদী করে মামলা এবং জামাতা জালান আহমেদকে বাদী করে আরেকটি মামলা দায়ের করিয়েছেন। এভাবেই হোসেন মিজানের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফিরোজ মুঠোফোনে বলেন, হোসেন মিজানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বিবরণের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। মন্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হলে এমএমএ কাদের মোল্লা বলেন, মিজানের অভিযোগ সবই মিথ্যা। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর.

বিজ্ঞাপন

Daily Nobobarta © 2021 । AboutContactPrivacyFamilyকনভার্টার DMCA.com Protection Status
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Dailynobobarta