বাগমারায় বিএনপি’র এজেন্ডা বাস্তবায়নে মরিয়া ওসি মুস্তাক

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় অপরাধের রামরাজত্ব কায়েম করতে ওসি মুস্তাকের নানা কৌশল করে চলেছেন। ওসি মুস্তাক মোহনপুর থানা থাকাকালিন সময়েও কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন পুকুর খননের নামে। সেখান থেকে বদলি হয়ে আসে বাংলা ভাইয়ের আস্থানা, দেশের ভয়ংকর খ্যাত এলাকা বাগমারায়।

এরপর তিনি যেন আলাদ্দিনের চ্যারাগ হাতে পেয়ে যান, শুরু হয় তার নানা অপকর্ম। টাকার বিনিময়ে মামলা করা সহ গ্রেফতার বানিজ্য যেন তার প্রতিদিনের ঘটনা। এছাড়াও তিনি বিএনপি’র এজেন্ডা বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে কাজ করছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

সূত্রমতে জানাযায়, তিনি মোহনপুর থানায় থাকাকালীন সময়ে এক সাংবাদিককে লাঞ্চিত হতে হয় এবং ঐ সাংবাদিক মামলা করতে গেলে তিনি মামলা না নিয়ে কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন। এরপর কোর্টে মামলা হলে টাকা বিনিময়ে আসামী না ধরে তাকে জামিনের জন্য সহযোগিতা করেন। এবং পরবর্তীতে ঐ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অসত্য চার্জশিট দাখিল করে। যা সম্পুর্ন আইন বিরোধী কাজ। মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে। মামলা নাম্বার ৬২/২০।

এছাড়াও তার নির্দেশে উপজেলার প্রতিটি বিলে যেন পুকুর খননের মহাৎসব শুরু করেছিল। তবে বর্তমান ওসি তৌহিদুল ইসলাম যোগদানের পর এই অবৈধ পুকুর খনন অনেকটায় কমে গেছে। সেখান থেকে বদলি হয়ে বাগমারা থানায় আসার পর থেকে বাগমারাতেও তিনি পুকুর খননের মেলা বসান। তিনি পুকুর খননের একটা নির্দিষ্ট রেট করে দেয় খননকারিদের। প্রতি বিঘা ১০ হাজার টাকা। এর ফলে কমতে থাকে ফসলি জমির পরিমান। এছাড়াও গ্রেফতার বানিজ্য, চার্জশিট বানিজ্য সহ নানা অপকর্ম করে চলেছেন। তবে বর্তমান পুলিশ সুপার আসার পর তিনি যেন আরও বেপরোয়া। তাহলে কি কক্সবাজারের দৃশ্য কি রাজশাহীতে দেখা যাবে?

সকল বিষয় নিয়ে বাগমারা উপজেলার অসংখ্য সাধারণ মানুষ অভিযোগ তুলে বলেন, এই ওসি টাকা ছাড়া মামলা গ্রহন করেন না। টাকার বিনিময়ে মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে মামলা সাজানোই তার নিত্য দিনের কাজ। উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের মুগাইপাড়া বাজারের এমনই এক ভুক্তভোগী বলেন, মুগাইপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাজারে চেম্বার বানিয়ে প্রকাশ্যে বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে দলীয় মিটিং করে। এবং নানা দুর্নীতি করে। এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বহু অপরাধ থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি থানা পুলিশ। এমন কি থানায় মামলা দিতে গেলেও মামলা নেওয়া হয়না। বরং উল্টো বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে ও প্রধান শিক্ষককে বাঁচাতে অভিযোগকারিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এই বিতর্কিত ওসি।

এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হলে এই শিক্ষক আরও ভয়ংকর রূপ ধারন করেন। এবং সাংবাদিক সহ এর তথ্য দাতাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। যার তথ্য প্রমান রয়েছে। এই হুমকির শিকার মুগাইপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মাসুদ মাষ্টার। তথ্য প্রমান সহ থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা না নিয়ে জিডির পরামর্শ দেয়। অথচ কোন তথ্য প্রমান ছাড়া ঐ শিক্ষককে বাঁচাতে মাসুদ মাষ্টারের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহন করেন এবং মাসুদ মাষ্টারকে গ্রেফতার করেন। এমন কি মাসুদ মাষ্টার যেন জামিন নিতে না পারে সেজন্য পরের দিন দেরি করে কোর্টে পাঠায়।

মামলার ফরোয়ার্ডিং কপি আরও দেরি করে পাঠায়। কিন্তু ঐ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে, সাক্ষর জালিয়াতি, টাকা আত্নসাৎ, চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্নসাৎ, মোটরসাইকেল চোরা কারবারি, নারী ক্যালেঙ্করি সহ ১০ বছরের শিশুকে বিয়ের অভিযোগ রয়েছে। তবুও যেন তাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে বর্তমান ওসি মুস্তাক আহমেদ।

বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এই বিষয়গুলো আমার জানা নাই, অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *