শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

sakarya escort sakarya escort sakarya escort serdivan escort webmaster forum

serdivan escort serdivan escort serdivan escort hendek escort ferizli escort geyve escort akyazı escort karasu escort sapanca escort

‘বড় পদে শক্ত অবস্থানে বিদ্রোহীরা’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১
  • ৭০ বার পঠিত
lakshmipur

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি,কিশোর কুমার দত্ত:

তৃতীয় ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌর নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার যুদ্ধের আগেই লক্ষ্মীপুরে ছড়িয়েছে উত্তাপ। শুরু হয়েছে তুমুল বাকযুদ্ধ আর পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ। এলাকার মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকলেও নির্বাচনকে
কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে বিভক্তি লক্ষ করা গেছে। আর এসব করে চলেছেন প্রধান দল ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। আর দলে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় কিছুটা অস্ব^স্তিতে রয়েছেন সরকার দলীয় প্রার্থীরা। তবে ভোটাররা এসব ভালো চোখে দেখছে না। তাদের দাবী, মানুষ নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা জানতে চায়, কোন দ্বিধাদ্বন্ধ নহ।
জেলার রামগঞ্জে ১০টি ইউনিয়ন, রায়পুরে ১০টি ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান এবং মেয়র পদে মোট ১৩২ জন প্রার্থী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের রিটার্ণিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ২১ জন নৌকা
প্রতীকে। তবে নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিতে বাকিরা রয়েছেন শক্ত অবস্থানে।

এর আগে মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৫ টা পর্যন্ত ছিল নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। নির্বাচনে অংশ নিতে রামগঞ্জের ১০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭৫ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১১১ ও সাধারণ সদস্য পদে ৫০৯ জন এবং রায়পুরে চেয়ারম্যান পদে ৫১ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১০০জন, সাধারণ সদস্য পদে ৪৬০ জন প্রার্থী তাদের
মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। তবে এখানে ১০নং ইউনিয়নে নৌক প্রতীকে নিয়ে সফিউল আযম সুমন চৌধুরী বিনা প্রতিদ্ধীতায় পুনরায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ছাড়া বিদ্রোহীদের মুখোমুখি নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। এতে করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম বিরোধ ও
ক্ষোভ। প্রার্থীদের মাঝে নৌকা প্রতীক বরাদ্ধের পরও দলের বিদ্রোহী এবং পদে থাকা নেতাকর্মীরা নিজেদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন সবগুলো ইউনিয়নে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যানারে, দলের
বিদ্রোহী প্রার্থীরাও উঠোন বৈঠক, মোটরসাইকেল মহড়াসহ গ্রামীন বাজারগুলোতে সভা সমাবেশ ও শোডাউনের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি সমর্থন যাছাইয়ে নেমে পড়েছেন।

এছাড়া ৮ নম্বর করপাড়া ইউনিয়ন ছাড়া ৯ ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী শাসনতন্ত্র ও ৬ নম্বর লামচর ও ৭নম্বর দরবেশপুর ইউনিয়নে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দুইজন প্রার্থী। দলীয় মনোনয়ন বাহিরে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহীদের নিয়ে মোটেও ভীত নয় বলে মন্তব্য করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সফিক মাহমুদ পিন্টু। তিনি জানান, দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বাহিরে দলের বিরুদ্ধে ভোটে অংশগ্রহণ করলে আজীবন বহিস্কারসহ দলের পদ পদবি বঞ্চিত হবেন। তবে দলের কেন্দ্রীয়

সিদ্ধান্ত মতে এবারও স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ করছি না বলে জানান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম ভিপি। জানা যায়, জেলার রায়পুরে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের (নৌকা প্রতীক) পেয়েও স্বস্তিতে নেই চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। তাদের দুচিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে মাঠে থাকা বিদ্রোহী প্রার্থীরা। দলের মনোনয়ন বঞ্চিত এসব বিদ্রোহী প্রার্থী সরকার দলীয়
প্রার্থীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তৃণমুলে এসব বিদ্রোহী প্রার্থীর ব্যাপক জনসমর্থন থাকায় মাঠ ছাড়তে নারাজ তারা। আর তাতে নৌকার প্রার্থীরা অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়বেন বলে ধারণা স্থানীয়দের। তবে বিদ্রোহীদের সঙ্গে একাধিকবার কথা
বলেও তাদের সমঝোতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছেন দলের দায়িত্বশীল নেতারা। এসব এলাকার নির্বাচনী মাঠ ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। তবে বিদ্রোহী এসব প্রার্থী ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। কয়েকজন আওয়ামী লীগের (নৌকা প্রতীক) প্রার্থী জানান, সরকারের উন্নয়ন অব্যহত রাখতে দল তাদের নৌকা প্রতীক দিয়ে পাঠিয়েছেন। নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করা মানে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তাই দল এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা করেন
তারা।

রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক হাজ্বী ইসমাইল খোকন বলেন, নির্বাচনী মাঠে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না। সবাই তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নৌকার পক্ষে ভোট করবে। যারা নৌকার বিরুদ্ধে থাকবে, তাদের দল থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হবে।
অপরদিকে, লক্ষ্মীপুর পৌরসভা নির্বাচনে ১৫টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ২০ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এছাড়া মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীসহ ৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়ন পত্র জমা দানের শেষ দিনে জেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে
আওয়ামী লীগ মনোনীত জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সমর্থক নিয়ে নির্বাচন অফিসের সামনে জমায়েত হন। পরে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীনের নিকট মনোনয়ন পত্র জমাদেন তিনি। দল থেকে তিনি প্রথমবারে মতো মনোনয়ন পেয়েছেন। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বদরুল আলম মাহমুদ, জাকিরুল আল মামুন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জহির উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মোহাম্মদ আবদুর রহিম, স্বতন্ত্র শাহেলা শারমিন মেয়র পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত (নৌকা প্রতীক) প্রার্থী মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া বলেন, আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি এই পৌরসভার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রেখে আগামী ২৮ তারিখের নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবেন। দলের বিপক্ষে গিয়ে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আশা করি মনোনয়নপত্র

প্রত্যাহারের দিন দলের প্রতি আস্থারেখে তারা মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিবেন। নির্বাচনে জয়ের জন্য পৌরবাসীর সহায়তা ও দোয়া কামনা করেন তিনি। প্রসঙ্গত, আগামী ৪ নভেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই, ১১ নভেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহার ও ২৮
নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Dailynobobarta
Developed By Dailynobobarta