ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বিএনপির অন্যতম একটি সহযোগী সংগঠন।প্রতিষ্টার পর থেকে দেশের ক্রান্তিকালে ড্যাব সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রফেসর ডাঃ হারুন আল রশিদ সভাপতি এবং ডাঃ আবদুস সালাম ড্যাবের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন।হারুন-সালাম নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী চিকিৎসকদের এই কমিটি প্রায় সাড়ে ৫ বছরের মতো নেতৃত্ব দেয়। নতুন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত মার্চের ২৪ তারিখ হারুন-সালাম কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং ১২ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষিত হয়।
সাবেক সচিব জনাব ইসমাইল জবিহুল্লাহকে প্রধান করে ঘোষিত এই কমিটিতে সাবেক সচিব, ইউনিভার্সিটির ভিসি, শিক্ষক ও দেশবরেণ্য চিকিৎসকরা রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ড্যাবের বিদ্যমান দুটি গ্রুপের সর্বোচ্চ নেতৃবৃন্দদের নিয়ে লাইভ মিটিং (স্কাইপি) করে সর্বসম্মতিক্রমে সারাদেশে ড্যাবের সদস্যদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে একটি নির্বাচনের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।উক্ত আলোচনায় আরো সিদ্ধান্ত হয় ৫ই অগাস্ট ২০২৪ সালের আগে যারা ড্যাবের ভোটার হয়েছে কেবলমাত্র তারাই আসছে নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এবং নতুন সদস্যপদ গ্রহণ/রিনিউয়াল প্রক্রিয়া আপাততঃ বন্ধ থাকিবে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে ড্যাবের দুটি গ্রুপ মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। এক পক্ষে আছেন ড্যাবের সাবেক সভাপতি প্রফেসর ডাঃ এম আজিজুল হক-ডাঃ রফিকুল কবির লাবু'র নেতৃত্বাধীন একটা অংশ পর্দার আড়ালে যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড্যাবের সাবেক মহাসচিব, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য প্রফেসর ডাঃ এ.জেড.এম জাহিদ হোসেন। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে তাদের নির্বাচনকালীন অফিসে দলীয় কার্যক্রম চলমান।অন্য পক্ষে আছেন সদ্য সাবেক কমিটির সভাপতি প্রফেসর ডাঃ হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব ডাঃ আবদুস সালাম পর্দার আড়ালে যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড্যাবের প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য প্রফেসর ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার,পুরাতন রমনা থানার পাশে রমনা শপিং কমপ্লেক্সে তারা নির্বাচিনকালীন অফিস নিয়েছেন।আসছে মে মাসের ৮ তারিখ নির্বাচনের একটা সম্ভাব্য তারিখ হয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে শোনা যাচ্ছে যদিও তা চূড়ান্ত নয়।
নির্বাচনকে ঘিরে দু পক্ষের মধ্যেই একটা উৎসব ভাব বিরাজ করলেও দু পক্ষেরই রয়েছে নানান অভিযোগ। প্রফেসর ডাঃ এম.আজিজুল হকের অনুসারীদের অভিযোগ ২০১৯ সালে বিনা নোটিশে প্রায় ১৫০০ সদস্যের লাইফ মেম্বার/জেনারেল মেম্বার বাতিল করা হয়েছে যাদের অধিকাংশ তাদের অনুসারী।পাশাপাশি অন্য আরেকটা গ্রুপ ৫ অগাস্টের পরেও নতুন সদস্য করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।তারা তাদের এই অভিযোগ দলীয় মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কে জানিয়েছেন বলেও প্রতিবেদককে জানান।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক আল আমিন সরজমিনে সাক্ষাৎ করেন অন্য আরেকটি গ্রুপের নেতৃবৃন্দের সাথে।তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়-পরপর ৩ টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ জবর দখল করে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার প্রেক্ষিতে ড্যাবের তৎকালীন অনেক চিকিৎসক আওয়ামীপন্থী চিকিৎসক সংগঠন স্বাচিপে যোগ দেন,কেউ কেউ সরকারের সাথে আঁতাত করে আওয়ামীলীগের দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে থাকেন।এমতাবস্থায় তৎকালীন ড্যাবের নেতৃবৃন্দ দলীয় চেয়ারম্যান ও ড্যাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের সাথে আলোচনা করে মেম্বারশিপ তথ্য হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যার মাধ্যমে বৈরী পরিবেশে প্রকৃত জাতীয়তাবাদী চিকিৎসকদের শনাক্তকরণ এবং তাদের তালিকাভুক্তি করার কার্যক্রম গৃহীত হয় যা পরবর্তীতে ইসি সভায়ও সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত সকল ইউনিটের নেতৃবৃন্দ প্রত্যেকটি ইউনিটে জানিয়ে দেন,এবং মেম্বারশিপ হালনাগাদ ফর্ম বিতরন করেন।অনেকের কাছে মেম্বারশিপ হালনাগাদ করার প্রস্তাব/ফর্ম নিয়ে গেলেও কোনো রকম সারা দেন নি কেউ কেউ তিরস্কার ও করেছেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত বহির্ভূত এই ধরণের কর্মকান্ড এবং সদস্যপদ হালনাগাদ না করার নিমিত্তে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলে তাদের সদস্যপদ স্থগিত বলে গন্য হয়। (সংবিধান অনুযায়ী)। তবে পরবর্তীতে কখনো আজীবন সদস্য পদ এর জন্য আবেদন করলে তথ্য হালনাগাদ ফরম পুরন সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটি যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যদি কোন অভিযোগ না পাওয়া যায় তবেই তার সদস্য পদ ফেরত দেওয়া যাবে।
৫ ই অগাস্টের পরে নতুন সদস্য নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন"২০১৯ সালে আমরা নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন সদস্য হয়েছেন মাত্র ২৪৮ জন" ,অথচ এই লম্বা সময়ে ড্যাব এর সদস্য নবায়ন, হালনাগাদ অথবা নতুন সদস্য পদ গ্রহণ চলমান ছিল। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে একজনও আজীবন সদস্য পদ ফেরত দেয়ার জন্য কোন আপত্তি আবেদন করেন নি। এবং এটাই সত্যি যে যদি ৫ই আগষ্ট স্বৈরাচারী সরকার বিদায় না নিলে কেউই আবেদন করতেন না।
আসন্ন নির্বাচন কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পারস্পরিক এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হতে আমাদের টিম এবার দ্বারস্থ হন দেশবরেণ্য একজন চিকিৎসকের যিনি বিএনপির রাজনীতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।নাম না প্রকাশ করার শর্তে তিনি বলেন" বিএনপি একটি বটবৃক্ষের ন্যায় বিশাল বড়ো দল,ড্যাব অনেক বড়ো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ।৫ই অগাস্টের পর সুযোগসন্ধানীদের ভিড়ে প্রকৃত কর্মীরা যেন হারিয়ে না যায়, কোনরকম অনুপ্রবেশকারী যেন দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুটো গ্রুপ নানান অভিযোগ তুলছে তবে সকল অভিযোগ যাচাই বাছাইয়ের জন্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে দিয়েছেন, যে কোনো অভিযোগ সবার আগে তাদেরকেই জানানো উচিৎ"তারা ব্যর্থ হলে পরবর্তী করণীয় জনাব তারেক রহমান নিজেই ঠিক করে দিবেন।এভাবে বাইপাস করে সরাসরি মহাসচিবের দ্বারস্থ হওয়া নির্বাচনকালীন গঠিত কমিটিকে অসম্মান করা এবং বিতর্কিত করা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারি হাসপাতাল দখল করে দলীয় অফিস হিসেবে ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন"৫ ই অগাস্টের পর বিএনপি মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হচ্ছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরেও এই ধরনের কর্মকাণ্ড বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।জনসাধারণের দূর্ভোগের কোনো কারণ বিএনপি হতে পারে না।
আগামীর ড্যাব কাদের হাতে নিরাপদ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন'আমি কোনো গ্রুপের অংশ না তবে ওয়ান- ইলাভেনে বিএনপির সবচাইতে খারাপ সময়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে যারা দলের সাথে বেঈমানি করেছে তাদের নেতৃত্ব বা খবরদারি কেউ মেনে নিবে না।
অনুসন্ধানে জানা যায়'ওয়ান ইলাভেনের সময় তৎকালীন ড্যাবের সভাপতি প্রফেসর ডাঃ একে এম.আজিজুল হক সংস্কারে যোগ দিয়েছিলেন। তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার সাথে সংস্কারে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ড্যাব আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ডাঃ আজিজ কে তিরস্কার করেন এবং বেগম জিয়ার পাশাপাশি বসাতে তীব্র ক্ষোভ ঝাড়েন।ডাঃ আজিজ সভাপতির সমাপনী বক্তব্য দিতে চাইলে বেগম জিয়া তাকে বক্তব্য দিতে বারণ করেন'।