ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটের চাঞ্চল্যকর মুমিন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে ৮জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। অপর ১২ আসামিকে খালাস ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ রায়ে সন্তুষ্ট নয় বাদীর পরিবার ও আনজীবী। তারা ফাঁসির দাবি নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, আপন চাচার সাথে জায়গা জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ২০১৮ সালের মার্চের এক রাতে চাচাতো ভাই সারোয়ার মোবাইলে কল দিয়ে ডেকে নেয় মুমিনকে। এরপর তার উপর হামলা চালানো হয়। তাকে কুপিয়ে জখম করলে মারাত্মক আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে তার অবস্থা আরও অবনতি হলে তাকা ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ মার্চ মুমিন মৃত্যুবরণ করেন। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার রায়ে সরকার পক্ষের আইনজীবী সন্তোষ প্রকাশ করলেও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুমিনের স্ত্রী, ভাই ও তাদের আইনজীবী।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. লালা বলেন, আসামীরা স্বীকার করেছে যে তারা হত্যা করেছে। নিহতের ভিডিও রেকর্ডও আছে, যেখানে হামলার সম্পূর্ণ বিবরণ রয়েছে। এ মামলায় যাদের যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে তাদের সবার ফাঁসি হওয়া উচিৎ। কিন্তু দেয়া হলো যাবজ্জীবন। আমরা ন্যায়বিচার পাইনি।
তিনি আরও বলেন, মানুষ আদালতে ন্যায় বিচার পায়না। এক্ষেত্রেও তাই হলো। এমন হলে আদালতের প্রতি মানুষের আস্তা থাকবেনা।
তার বিধবা স্ত্রী রায় শুনে বলেন, আমরা এদের ফাঁসি চাই। বাবাকে হারিয়ে আমার ছেলে মেয়ে চরম দুরবস্থায় জীবন যাপন করছে। পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত। আমরা ফাঁসি চাই।
তার ভাই বলেন, মৃত্যুর আগে মুমিন একটি ভিডিও করে গেছে। সেই ভিডিওতে কিভাবে তাকে আঘাত করা হয়েছে, তারা হত্যা করা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে। কিন্তু তার পরেও আমরা ন্যায় বিচার পেলাম না। ৮ জনের সবার ফাঁসি চাই।