মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের করজনা বাজার থেকে হিজুলিয়া খালপাড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। এই রাস্তাটির পাশেই রয়েছে করজনা এ বি এন এন উচ্চ বিদ্যালয়, করজনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়াচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি বাজার, কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ ও মন্দির। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার অবস্থা এমন হয় যে, পায়ে হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়ে।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে এই রাস্তাটি হাঁটু পর্যন্ত কাদায় ডুবে যায়। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে হয় কাঁদা ভেঙে, হাতে জুতা ধরে। অনেক সময় পড়তে হয় ছোট-বড় দুর্ঘটনার মুখে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন স্কুলগামী শিশু ও বৃদ্ধরা। বৃহস্পতিবার সকালে করজনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থীকে কাঁদার মধ্যে স্কুলে যেতে দেখা যায়—একজন কাঁধে ব্যাগ নিয়ে হাঁটছে, আরেকজন জুতা হাতে করে পা টেনে টেনে এগোচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা। বর্ষা এলেই এই রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। গর্ভবতী নারী, রোগী বা জরুরি কাজে কারও বের হতে হলে হেনস্তা পোহাতে হয়। এর আগে বহুবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা রাস্তা সংস্কার কিংবা পাকাকরণের আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
করজনা গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই রাস্তা পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছি। আশ্বাস তো অনেকই পাই, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। বাচ্চারা কীভাবে স্কুলে যায়, সেটা দেখলেই বোঝা যায় আমাদের কষ্ট কতটা।’ স্থানীয়রা দ্রুত এই রাস্তাটির সংস্কার ও পাকাকরণ দাবি করেছেন।