কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার কোম্পানিগঞ্জ বাজারে চলন্ত বাসে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে অসামান্য সাহসিকতা প্রদর্শন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন পুলিশ কনস্টেবল হাসান আহমেদ। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে তার সেই মুহূর্তের ভিডিওটি এখন ইন্টারনেটে ভাইরাল।
গত ২২ মে বিকেল ৪টার দিকে কুমিল্লা জেলার কোম্পানিগঞ্জ বাজারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিনিবাসে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পার্শ্ববর্তী দোকানপাটে আগুন ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়।
উপস্থিত জনতা যখন আতঙ্কিত হয়ে ভিডিও করায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই সেখানে ডিউটিরত কনস্টেবল হাসান আহমেদ নিজের জীবনের পরোয়া না করে আগুন নেভাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
তার এই অসীম সাহস দেখে পাশে থাকা অন্যান্য পুলিশ সদস্যরাও দ্রুত এগিয়ে আসেন। হাসান আহমেদের আহ্বানে পরবর্তীতে উৎসুক জনতাও আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় বাজারটি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা ও পুরস্কারের দাবি:
ঘটনাটি ভিডিও আকারে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই কনস্টেবল হাসানকে নিয়ে ইতিবাচক চর্চা শুরু হয়। বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল এবং ফেসবুক পেজে তার সাহসিকতার গল্প পোস্ট করে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করার দাবি জানানো হচ্ছে।
সাহসী এই পুলিশ সদস্য ২০২২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি ৭ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), সিলেটে কর্মরত আছেন। তার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার কচুরগুল গ্রামে।
হাসান আহমেদের এই বীরত্বগাথা তার জন্মস্থান মৌলভীবাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন।
জুড়ী উপজেলার বিশিষ্ট সমাজসেবক, লন্ডন প্রবাসী এবং সৈয়দ সিরাজ আলেয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ জায়েদুল ইসলাম কনস্টেবল হাসানের জন্য বিশেষ পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।
নিজের অফিসিয়াল পেজে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি হাসান আহমেদকে 'জুড়ীবাসীর গর্ব' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে হাসান বাড়িতে ফিরলে তাকে বড় পরিসরে সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।
একজন সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে হাসান আহমেদের এই মানবিক ও সাহসী ভূমিকা পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।