সিলেটে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি না হলে তা জেলা প্রশাসন নিজেই সংগ্রহ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সিলেটে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
জেলা প্রশাসক জানান, এ বছর সিলেট জেলায় কোরবানিকৃত প্রায় ৭০ থেকে ৮৫ হাজার পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চামড়া সংরক্ষণে সহায়তার জন্য সরকার সিলেট জেলায় ৩৪৫ টন লবণ বরাদ্দ দিয়েছে।
তিনি বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে স্কুল-কলেজ, খেলার মাঠ এবং পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশে কোরবানি না করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোরবানি শেষে সর্বোচ্চ আট ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করবে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।
এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী কোরবানির মৌসুমে চামড়া সংগ্রহ না করার পূর্ব সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে স্থানীয় কওমি মাদ্রাসাগুলো।
এর আগে, চামড়ার বাজারে ধস ও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে চরম হতাশায় ভুগছিলেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিলেট বিভাগের কওমি মাদ্রাসাগুলো আসন্ন ঈদুল আজহায় চামড়া সংগ্রহ না করার একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে গতকাল সোমবার বিকালে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসে ‘কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ’।
বৈঠক শেষে পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খান জানান, জেলা প্রশাসকের আন্তরিক আশ্বাস ও সহযোগিতার বার্তায় তারা চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। তবে ঈদের ছুটিতে ইতিমধ্যে অনেক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যাওয়ায় কিছুটা জনবল সংকট তৈরি হয়েছে।
নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, "যেহেতু জনবল সংকট রয়েছে, তাই আমরা সিলেট নগরবাসীকে অনুরোধ করব— তারা যেন কোরবানির পশুর দানের চামড়াগুলো নিজ দায়িত্বে নিকটবর্তী মাদ্রাসায় পৌঁছে দেন। আর যেসব মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন, তারা ঈদের দিন যথারীতি চামড়া সংগ্রহ করবেন।
মাওলানা মুশতাক আহমদ খান আরও যোগ করেন, "চামড়া একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ। জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদের সমস্যাগুলো অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, সরকার নির্ধারিত দামেই যেন চামড়া বিক্রি হয়, প্রশাসন সেই ব্যবস্থা করবে। এছাড়া, সংগৃহীত কাঁচা চামড়া পরিবহনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য দক্ষ শ্রমিক (লেবার) সরবরাহ করা হবে।"