ডেস্ক রিপোর্ট : জাল আমমোক্তারনামা ও অছিয়তনামা তৈরি করে কোটি কোটি টাকার পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল এবং প্রাণনাশেরহুমকির অভিযোগে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী কানাডা প্রবাসী এহসানুল ইসলাম চৌধুরী ও আমেরিকা প্রবাসী তাজিন ইসলাম চৌধুরী।
তবে সংবাদ সম্মেলনে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাদের মা বুলবুল আহমেদ চৌধুরী ও ভাই মুমিনুল ইসলামচৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীরা জানান, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের বিরুদ্ধে তারা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন (আদালত নং-০১, সিলেট)।
বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপারকে নির্দেশদিয়েছেন।
একই সাথে বিতর্কিত আমমোক্তারনামা জব্দ এবং বিশেষজ্ঞ দ্বারা স্বাক্ষর পরীক্ষার আদেশ প্রদান করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারণা এড়াতে গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কানাডার টরন্টোস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে বিতর্কিত 'জেনারেল পাওয়ার অব অ্যাটর্নি' বা আমমোক্তারনামাটি বাতিল (Declaration To Revoke The General Power of Attorney) করা হয়।ফলে উক্ত দলিলের ভিত্তিতে করা কোনো লেনদেন বা চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ।
এছাড়া ৭১/২০১০ নং অছিয়তনামাটি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে দাবি করে তারা জানান, গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সিলেট যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত এক আদেশের মাধ্যমে অছিয়তনামার কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী 'পল্লবী কমিউনিটি সেন্টার' থেকে সংগৃহীত ভাড়ার কোনো টাকা না দিয়ে সিলেট সদরের নালিয়া আঙ্গারুয়া মৌজার প্রায় ২৬২ শতক জমি এবং ঢাকার ধানমন্ডি ৭ নম্বর সড়কের পৈতৃক বাড়ি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন।
সম্প্রতি সম্পত্তির সুষ্ঠু বণ্টনের দাবি জানালে গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাতে প্রবাসীদের সরাসরি প্রাণনাশেরহুমকি এবং সাইবার ট্রাইব্যুনাল ও ইন্টারপোলের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
এ বিষয়ে সিলেটের কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং: ১৬০৮, তারিখ: ১৫/১০/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে।
প্রবাসী প্রবাস ফেরত পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার, জবরদখলকৃত জমি ও ভবন প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের বুঝিয়ে দেওয়া এবং প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানোহয় সংবাদ সম্মেলনে।
প্রবাসে অবস্থানকালে দেশে যাবতীয় কাজ তদারকির জন্যতারা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও হাবিবুর রহমান শিবলুকেদায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আনীত যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে এহসানুল ইসলাম চৌধুরীর মা বুলবুল আহমেদ চৌধুরী জানান, "আমার ছোট ছেলে মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী আমার দেখাশোনা করে। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে সকলেই আমার সন্তান। কানাডা ও আমেরিকা প্রবাসী দুই সন্তান আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও সংবাদ সম্মেলন করে হয়রানি করছে।ব্যাংকের মাসের ভাড়ার টাকা শুরু থেকেই আমার অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে।" তিনি ও তার ছেলে মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানান।