ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন, যাতায়াতের সময় কমানো এবং আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
এ লক্ষ্যে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) আওতাধীন এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট)-এর চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে এমআরটি লাইন-৬ ডিপো এলাকায় অবস্থিত মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দুটির অবকাঠামো উন্নয়নে এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদ। এ ছাড়া জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাতায়াতের সময় কমানো বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এসময় তিনি বলেন, নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা যাবে না। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি দীর্ঘায়িত না হয়।
সড়ক সচিব আরো বলেন, নির্মাণকাজের পরিবেশগত প্রভাব এবং প্রকল্প এলাকার আশপাশে বসবাসকারী মানুষের কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও যোগাযোগ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঢাকাবাসীর জন্য আধুনিক, দক্ষ ও আরামদায়ক গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
চুক্তি স্বাক্ষরিত চারটি প্যাকেজের আওতায় যেসব কাজ হবে১. এমআরটি লাইন-১: কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০২ (ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণ কাজ) এই প্যাকেজের আওতায় এমআরটি লাইন-১ এর ডিপোর জন্য ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এই কাজের জন্য 'SINOHYDRO-SEBCL JV'-এর সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
২. এমআরটি লাইন-১: কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৭ (ভায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মাণ) এই প্যাকেজের মাধ্যমে পাতাল পথ হতে উড়াল পথে ট্রানজিশন পয়েন্ট হতে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫.০০৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট এবং ৩টি এলিভেটেড স্টেশন (জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া এবং মস্তুল) নির্মাণ করা হবে। এই কাজের চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে 'CREC-MIL-MBEC JV'-এর সাথে।
৩. এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট): কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০২ (ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণ কাজ) এই চুক্তির অধীনে এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট) এর ডিপোর জন্য প্রশাসনিক ভবন (OCC, DCC), স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, ওয়ারহাউজ এবং ওয়ার্কশপ শেডসহ অন্যান্য পূর্ত কাজ সম্পন্ন করা হবে। এই কাজের জন্য 'CPC-HANIL JV'-এর সাথে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।
৪. এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট): কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৩ (ভায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মাণ) এই প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬.৫০ কিলোমিটার এলিভেটেড রেলওয়ে লাইন নির্মাণ করা হবে। সেই সাথে ৫টি এলিভেটেড স্টেশন— হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার এবং ভাটারা স্টেশন নির্মিত হবে। এই কাজের চুক্তিটি 'CREC-MIL-MBEC JV'-এর সাথে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চারটি প্যাকেজের নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রাজধানীর গণপরিবহন অবকাঠামো সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হবে। একই সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান যাতায়াত চাহিদা মোকাবিলা, যানজটের চাপ কমানো এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও এগিয়ে যাবে।