রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:১৫ অপরাহ্ন

sakarya escort sakarya escort sakarya escort serdivan escort webmaster forum

serdivan escort serdivan escort serdivan escort hendek escort ferizli escort geyve escort akyazı escort karasu escort sapanca escort

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, শাস্তি হচ্ছে কতোটা?

ইয়াসিন আহমেদ
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ২১১ বার পঠিত
সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ভুক্তভূগীরা প্রতিদিন আইজিপি কমপ্লেন সেল, ডিএমপি কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, ভুক্তভূগীদের অভিযোগ, অভিযোগ দিলে তদন্ত তো পুলিশই করে। তাই বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বরং, যারা অভিযোগ দেয়, তাদের করা হচ্ছে নানাবিধ হয়রানী।

বাংলাদেশে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমছে। গত কয়েক বছরে শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তি হয়েছে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ছিনতাই, ভয় দেখিয়ে
অর্থ আদায়, মিথ্যা মামলায় সাধারণ মানুষকে ফাঁসিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে। আবার পুলিশ সদর দফতরে অনেক অভিযোগ জমা পড়লে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া
সম্ভব হচ্ছে না আইনগত জটিলতায়। বর্তমানে পুলিশ সদর দফতর শুধু কনস্টেবল থেকে ওসি পর্যন্ত ব্যবস্থা নিতে পারে। এর ওপরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ পাঠাতে পারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তদন্ত যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ফৌজদারি দণ্ডবিধির আওতায় অপরাধ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে আইন প্রয়োগকারী সব সংস্থার।

পুলিশ বিভাগের নিজস্ব রিপোর্টে দেখা গেছে, শুধু ২০১৭ সালে ১৪ হাজার ১৩৩ জন কনস্টেবল ও এএসআই’এর লঘুদণ্ড ও ৪৮৯ জনের গুরুদণ্ড হয়েছে। একই সময়ে ৩৮ জন পুলিশ পরিদর্শকের লঘুদণ্ড ও ৮ জনের গুরুদণ্ড হয়েছে। গত দুই বছর আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগীয় কোনো উপাত্ত পুলিশ প্রকাশ না করলেও ডিপার্টমেন্টাল শাস্তির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে মামলা হয়েছে এবং বিচার চলছে। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় পুলিশের অপরাধ কাজে অধিক হারে জড়িয়ে পড়ার জন্য দীর্ঘদিনের ঘুণে ধরা সিস্টেমকে দায়ী করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিয়া
রহমান। কিছু ঘটনার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পুলিশ বিভাগের কিছু সদস্যের সরাসরি অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা করোনাকালে বেড়েছে।

শুধুমাত্র রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকায় পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ জমা হচ্ছে। কিন্তু, ব্যবস্থাগ্রহণের নজীর নেই। বরং, যারা অভিযোগ দিচ্ছে, তাদেরকে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানী করা হচ্ছে। এমন কি সংবাদ প্রকাশ করা বা সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েও পুলিশী হয়রানীর শিকার হচ্ছে সাংবাদিকরা পর্যন্ত। কিন্তু, পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায় নি।

চলতি বছর নভেম্বরের ১১ তারিখে সাপ্তাহিক নতুন বার্তা’র সম্পাদক ইউসুফ আহমেদ (তুহিন) আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার ও ১২ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও জননিরাপত্তা সচিব বরাবর তথ্য প্রমাণসহ পল্লবী থানার ওসি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়। সেখানে বলা হয়, গত ১৬ অক্টোবর অসংখ্য মানুষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পল্লবী থানার এসআই কাউসার মাহমুদ ও এসআই জিতুসহ কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস সোসাইটির কার্য্যালয়ে যাই। সেখানে সকলে জানায়, পুলিশের হুমকী দিয়ে তাদের মারধর করে। পুলিশে অভিযোগ দিলেও মামলা নেয় না। টাকা চাইতে গেলেই মারধরের শিকার হয়।

এই সময় এসআই কাউসার কর্ণফুলীর পিডি শাকিলকে থানায় যেতে বললে, শাকিল জানায়, আপনার কথায় কি থানায় যাব? ওসির সাথে কথা বলেন। এই বলে ওসিকে কল করে মোবাইলে ধরিয়ে দেয়। ওসির কল লিষ্ট চেক করলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর ওসি নানা ভাবে আমাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে। আমি অস্বীকৃতি জানিয়ে জানাই, আমার বাবা আমার জন্য যে সম্পত্তি রেখে গেছে, তাতে আমি চলে যেতে পারব। আমার অবৈধ টাকার দরকার নেই।

পরবর্তীতে ওসি’র পরামর্শে কর্ণফুলী’র পিডি আমার বিরুদ্ধে জিডি করে। কিন্তু, পুলিশের উপস্থিতিতে যদি আমি ওদের কাছে চাঁদা চেয়ে থাকি তাহলে পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিল না? সেখানে তো দুইজন এসআই উপস্থিত ছিল। পরবর্তীতে বাংলানিউজ, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভিসহ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে র‌্যাব-৪ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে কর্ণফুলীর প্রতারকদের। যা দেশের সকল সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। শুনা যায়, প্রতি মাসে কর্ণফুলী কর্তৃপক্ষ তাদের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য ওসিকে ১ লাখ টাকা করে দিত। সেই টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়াতে ক্রুদ্ধ হয় আমাদের উপর। বাংলানিউজের ইফতি, আমাকেসহ ৪ সাংবাদিকের উপর ক্রুদ্ধ হয়ে তাই মামলা রেকর্ড করে।

অভিযোগে আরো জানানো হয়, পল্লবী থানার ওসি’র প্রত্যক্ষ মদদে পল্লবীর পলাশনগরে প্রতিনিয়ত হচ্ছে দখল ও পাল্টা দখল। যা থেকে ওসি আয় করছে বড়
অংকের টাকা। এমনই এক পুলিশী দখল অভিযানের মাঝে গিয়ে পিস্তলের আঘাতে কপালে বড় রকমের ক্ষত হয়। পরবর্তীতে হসপিটালে চিকিৎসা নিয়ে এসে মামলা করতে চাইলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। এতে ক্রুদ্ধ সাংবাদিকরা পুলিশের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করলে, হামলার শিকার ৪ সাংবাদিককে আসামী করে একটি চাঁদাবাজীর
মামলা দেওয়া হয়।

মামলার ঘটনার সময় ২৩ অক্টোবর উল্লেখ করে। যদিও, ২৩ অক্টোবর কোন সংবাদিক সেই এলাকায় যায়ই নেই। ২৮ অক্টোবরের আগে তারা সেই এলাকাই চিনত না। মোবাইল লোকাশেন দেখলেই তা প্রমাণ হবে। এছাড়া, মামলার বাকী আসামীদেরও সাংবাদিকরা চিনে না। পুরোটা পুলিশের সাজানো মামলা দেখলেই বুঝা যায়। এছাড়াও, সাংবাদিকরা তাদের মোবাইলের আইএমি নাম্বার, মোবাইল ক্রয়ের রিসিটসহ মামলা করলেও, মোবাইল উদ্ধার তো করেই নেই, বরং, মামলায় উল্লেখিত পিস্তাল উদ্ধার করেনি। অবৈধ অস্ত্রের ধারা দেয়নি। এমন কি হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণের কথা মামলায় লেখা থাকলেও, সেই ধারাও দেয় নি। ইউসুফ আহমেদ তার অভিযোগে এছাড়াও ওসি কর্তুক সংগঠিত নানা অপরাধের বিবরণ দেয়। স্বাক্ষি হিসেবে থানার সিসিটিভি ক্যামেরাকে উল্লেখ করেন।

শুধু ইউসুফ আহমেদই নয়, পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলামের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ তুলে আইজিপি বরাবর অভিযোগ করেছেন লাকি বেগম নামে ৩ সন্তানের জননী এক নারী। গত ৪ নভেম্বর পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলামকে সন্ত্রাসী ও ডাকাত অভিহিত করে এই অভিযোগ করেন লাকি বেগম। তিনি তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ৩১ অক্টোবর অনুমান রাত সাড়ে ১১টার সময় পল্লবী থানাধীন কনসাল ক্যাম্পে পুলিশের হাত থেকে পারভেজ নামে এক মাদক ব্যবসায়ী হাতকড়া লাগানো অবস্থায় পালিয়ে যায়।

লাকি উল্লেখ করেন, পুলিশ তার ব্যর্থতা আড়াল করতে পল্লবী থানার সন্ত্রাসী ডাকাত ওসি এর নেতৃত্বে রাতে চালায় ঢালাও ভাবে ধর পাকড়, লটতরাজ ও মিথ্যা মামলা অভিযান।সাজিয়ে গুছিয়ে নির্দোষ ও নিরপরাধ ৪জনকে দেওয়া হয় মিথ্যা মামলা। তারা নিজেরাও জানে না তারা কি মামলার আসামী। ব্যবসায়ীক ও হয়রাণীর স্বার্থে করা হয় ৫০-৬০ জনকে আসামী। অভিযোগে আরো বলেন, ঘটনা কন্সাল ক্যাম্পের পারভেজকে নিয়ে হলেও, পুলিশ অভিযান চালায় বেনারসী ব্যবসায়ী পারভেজের বাসায়। পারভেজের অনুপস্থিতিতে ওসি পারভেজের বাসার তালা ভেঙ্গে ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট চালায়। ভেঙ্গে ফেলা হয় মটরসাইকেল, সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র পুলিশ নিয়ে যায়। সাথে নিয়ে যায় নগদ ৮০ হাজার টাকা, তিন ভরি স্বর্ণ, ৬লাখ টাকার বেনারসী শাড়ি।

অভিযোগে লাকী পল্লবী থানাকে হিরোইনের কারখানা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগে এই ওসি’র বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবী জানান। এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনার বরাবর জরিনা বেগম নামে এক নারী অভিযোগ জমা দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, পল্লবী থানার পুলিশের বিরুদ্ধে তার মেয়ের করা এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তার ছেলেকে বিশ্রামরত অবস্থায় ধরে নিয়ে মাদক মামলায় চালান করে। যদিও গ্রেফতারের সময় তার ছেলের কাছে কোন অবৈধ দ্রব্য পায়নি। আদালতে প্রেরণের পূর্বে তার ছেলের উপর চালানো হয় অকথ্য নির্যাতন।

এছাড়াও গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে সায়মা খাতুন নামে এক নারী ডিএমপি কমিশনার বরাবর ওসি পারভেজ ইসলামের বিরুদ্ধে ৯০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের
অভিযোগ জমা দেন। সেখানে টাকার জন্য সায়মা খাতুনের পরিবারের উপর দেওয়া বিভিন্ন মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগে কোন
ব্যবস্থাগ্রহণ করা না হলে নভেম্বরের ২ তারিখ আইজিপি বরাবর শ্লীলতাহানী, জোর পূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ করেন। অভিযোগে ওসি পারভেজ ইসলামকে
বর্ণবাদী ওসি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিহারী দেখে তাদের উপর ওসি এমন নির্যাতন চালাচ্ছে।

খালেক নামে এক ব্যক্তি পল্লবী থানার বিরুদ্ধে তাকে ও তার শ্যালককে আটক করে জায়গা দখলের অভিযোগ করেছেন মিরপুর বিভাগের উপ কমিশনার বরাবর। অভিযোগের পরও তার জায়গা পুলিশের উপস্থিতিতে দখল কার্য্যক্রম অব্যাহত ছিল বলে জানা যায়। শুধু লাকী বেগমই নয়, পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলামের বিরুদ্ধে জমি দখল, কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস সোসাইটির মাধ্যমে মানুষের সাথে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আইজিপিসহ বিভিন্ন দপ্তরে জমা পড়েছে। যদিও, এখন পর্যন্ত ওসি’র বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায় নি।

চ্যাংরাবান্দা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে ভারতে বিএসএফের হাতে আটক হলেন রাজধানীর বনানী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল
রানা। তার বিরুদ্ধে ই-কর্মাসের নামে প্রতারনার অভিযোগ ছিল। অন্যদিকে দিনাজপুরের চিরির বন্দরে মা ও ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টাকালে রংপুর সিআইডির এএসপি সরোয়ার কবীরসহ তিনজনকে আটকের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। সরোয়ারের সঙ্গে ছিলেন এএসআই হাসিনুর রহমান, কনস্টেবল আহসানুল
হক ফারুক ও তাদের গাড়ির চালক। তারা অপহরণ করেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার লুৎফর রহমানের স্ত্রী জহুরা খাতুন ও তার ছেলে জাহাঙ্গীরকে। অপহরণের পর তাদের পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে দিনাজপুর পুলিশের সহায়তায় অপহৃত মা ছেলেকে উদ্ধার ও অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

দিনাজপুর পুলিশের অপর এক ঘটনায় চলতি বছর ১৯ মে ফেনসিডিলসহ এএসআই শামীম নামে একজন কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। কিছু দিন আগে ঢাকায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইর এসপি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও তিনজন নারী পুলিশ সদস্য যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন। ২০২০ সালের ৮ই নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই আজিজকে ইয়াবাসহ আটক করেছিল র‌্যাব-১০ এর সদস্যরা। স্ত্রী মিতুকে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে হত্যার দায়ে এখন কারাগারে আছেন পুলিশের এসপি বাবুল আখতার।

চলতি বছর ১৩ই জুন কুষ্টিয়া শহরে দিনদুপুরে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করেন এএসআই সৌমেন মিত্র। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে নিজের স্ত্রী, সন্তান ছাড়াও সৌমেন
হত্যা করে আরেক যুবকেকে। আগস্ট মাসের শুরুতে ফেনীতে স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় ডিবির ওসি সাইফুল ইসলাম ভুইয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ তাদের আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে। ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার একজন এসআইর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ধর্ষণের অভিযোগে। একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যার দায়ে কক্সবাজারের ওসি প্রদীপ এখন কারাগারে। তার বিরুদ্ধে ১৮ জনকে বিনা বিচারে হত্যা বা ক্রসফায়ার করার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সদস্যরা নিজেরা কেন এভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেছেন,
ঔপনিবেশিক আমলের কাঠামো থেকে পুলিশ বাহিনী এখনো বের হতে পারেনি। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি করা যায়নি তাদের কাঠামো। ১৮৬১ সালের আইন দিয়ে পুলিশ পরিচালিত হচ্ছে। এত দিনেও কাঠামোগত সংস্কার করা যায়নি।

বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে মূল সমস্যা খতিয়ে দেখতে হবে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে আমাদের। ব্যক্তিবিশেষকে দোষারোপ করে লাভ নেই। পুরো
সিস্টেমটা নিয়ে ভাবতে হবে। বিশেষ করে বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন ঘাট, প্রসিকিউসন, তদন্ত ব্যবস্থা আছে। বিসিএস দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ভালো অফিসার ও কাজ দেখালে হবে না, জবাববদিহিতা স্বচ্ছতা, জরুরি। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্ম পরিবেশ নিয়েও ভাবতে হবে। স্থানীয় এমপি, অর্থশালীদের সঙ্গে ওসিদের একটা আঁতাতের সম্পর্ক থাকে। তারা একজন আরেকজনকে প্রটেকশন দেয়। আর সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়। ওসি, এসআই লেভেলে সংস্কার জরুরি বলে মনে করেন অধ্যাপক জিয়া রহমান। তিনি বলেন, তাদের বড় ধরনের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ জরুরি। তাদের আচার ব্যবহার সম্পর্কে আরও সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। চেইন অব কমান্ডে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। উনবিংশ শতাব্দীর পুলিশ দিয়ে এই যুগে চলতে পারে না। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, শাস্তির ব্যবস্থা, ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে দ্রুততম সময়ে।

পুলিশের সাবেক আইজি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সরকারী দলের এমপি নূর মোহাম্মদ বলেছেন, সংস্কার চলমান একটি প্রক্রিয়া। বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু দেখতে হবে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশ যাতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা পায় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, তদন্ত পুলিশকে তাদের মতো করতে দিতে হবে। পেশাদারিত্ব বজায় রেখে তারা তা করলে সমস্যা থাকে না। তিনি বলেন, অপরাধ তদারকির দায়িত্বে কর্মকর্তাদের শৈথিল্য পেলে ব্যবস্থা নিতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিলে সবাই সিরিয়াসলি কাজ করবে। আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা হিসেবে পুলিশকে
অবস্থান ধরে রাখতে হবে। মানুষের মাঝে আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি করতে হবে। একটি থানায় ঠিকভাবে সার্ভিসটা দিল কি না, সেবা কতটুকু করছে দেখতে হবে।
কাজটি ঠিকভাবে করল কি না তা মনিটর করতে হবে।

পুলিশ সদস্যদের নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে যাওয়া এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রসঙ্গে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, পুলিশ সদস্যদের
মধ্যে কেউ কোনো অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইচ্ছা করলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পারতাম। ইচ্ছা করলে ঘায়ে ব্যান্ডেজ করতে পারতাম। কিন্তুু আমরা এসবের মধ্যে নেই, এসব একেবারে ক্লিন করতে চাচ্ছি। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ফৌজদারি মামলা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (মিডিয়া এন্ড প্লানিং) হায়দার আলী খান বলেছেন, পুলিশের যে কোন ঘটনায় অভ্যন্তরীনভাবে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়। বাহিনীর কোন সদস্য অপরাধে জড়ালে তা বিভাগীয় এবং আইনগত দুইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যা সরকারের অনেক সংস্থায়ই নেই। পুলিশের কোন ঘটনাই ‘আনটাচ’ থাকে
না। আইজিপি স্যার এসব ব্যাপারে খুবই সচেতন এবং কঠোর। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশ বাহিনীকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আইজিপি মহোদয় নানা কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। করোনা মহামারীর জন্য এসব কর্মকান্ড কিছুটা ব্যাহত হয়েছে সত্যি। তবে পুলিশের কাজ কিংবা অফিস একদিনের জন্যও বন্ধ ছিলো না। জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে পুলিশ কাজ করেছে মানুষের জন্য। সক্ষমতা বাড়ানো, প্রেষণামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Dailynobobarta
Developed By Dailynobobarta