dailynobobarta logo
আজ রবিবার, ২৩ জুলাই ২০২৩ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | কনভার্টার
  1. অন্যান্য
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. গণমাধ্যম
  6. ধর্ম
  7. প্রযুক্তি
  8. বাংলাদেশ
  9. বিনোদন
  10. বিশেষ নিবন্ধ
  11. লাইফস্টাইল
  12. শিক্ষা
  13. শিক্ষাঙ্গন
  14. সারাদেশ
  15. সাহিত্য

গ্রিসে ভয়াবহ দাবানলে বাড়িঘর, হোটেল ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ

প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রবিবার, ২৩ জুলাই ২০২৩ | ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল

গ্রিসের পর্যটন এলাকা রোডস দ্বীপের বিস্তৃত এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় হাজার হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি ও হোটেল থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। দেশটির ফায়ার সার্ভিস বলছে, তারা এখন সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহের মধ্যে এখন প্রচণ্ড বাতাসসহ দাবানলের সাথে লড়াই করছে দ্বীপটি। তবে দেশটির জলবায়ু সংকট ও নাগরিক সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে এখন পর্যন্ত কারও আহত হবার ঘটনা ঘটেনি। তারা বলছে দ্বীপটির যেসব এলাকা বেশি আক্রান্ত সেখান থেকে পর্যটকদের নিরাপদে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পাঁচটি হেলিকপ্টার এবং ১৭৩ জন দমকল কর্মী ওই এলাকায় কাজ করছে। আগুনে তিনটি হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যেসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি তার মধ্যে আছে লায়েরমা, লারডোস ও আস্কলিপিও।

দ্বীপের পূর্বাঞ্চলের সৈকত এলাকা থেকে লোকজনকে তুলে নিরাপদ জায়গায় নিতে কোস্টগার্ডকে সহায়তা করেছে ব্যক্তি মালিকানাধীন নৌকাগুলোও। গ্রিক নৌবাহিনীর জাহাজ ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দিয়েছে। এলাকাটি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

গ্রিসের ডেপুটি ফায়ার চিফ বলেছেন, রোডসে যেভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে তা নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ কঠিন। গ্রিসের জলবায়ু সংকট ও নাগরিক সুরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এখনো পর্যন্ত কোনও আহতের খবর পাওয়া যায়নি। মন্ত্রক বলেছে যে, পর্যটকদের রোডসের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে – মোট দেশের মধ্যে প্রায় ১০% পর্যটক এই দ্বীপে ঘুরতে আসেন। তাদের অন্যান্য হোটেলগুলিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাঁচটি হেলিকপ্টার এবং ১৭৩ জন দমকলকর্মী এলাকায় কাজ করছে, কিওটারি এলাকার তিনটি হোটেল আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। একজন বৃটিশ পর্যটক জানাচ্ছেন, তিনি তার বোন এবং মেয়ের সাথে যে হোটেলে ছিলেন সেখান থেকে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়, কিন্তু এখন প্রচণ্ড গরমে আরও কয়েকশ লোক সমুদ্র সৈকতের বুকে আটকে পড়েছেন।

বেকি মুলিগান নামের এক পর্যটক বিবিসিকে বলেছেন, “সমুদ্রের ধারে শুধু কতগুলো ছোট খুপরি আছে এবং আমাদের মতো অনেকে সেখানে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। শিশুরাও সেখানে রয়েছে। দিনের মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সাহায্য এসে পৌঁছায়নি।

সাইমন হুইটলি বলেছেন, তিনি যখন খাচ্ছিলেন তখন আগুনের ছাই তার পিজ্জার উপর উড়ে এসে পড়তে শুরু করেছিল। তিনি বিবিসিকে বলেন, “হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের বলেছে এটা স্বাভাবিক ঘটনা এবং উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই কারণ তারা পরিস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছে।’ পরে সেই হোটেল খালি করা হয়।

অনেকেই আগুনের আঁচ থেকে বাঁচতে সমুদ্রের ধারে আশ্রয় নিচ্ছেন। তাড়াহুড়োতে অনেক পর্যটক হোটেলেই তাদের লাগেজ ফেলে এসেছেন। পর্যটন সংস্থা টিইউআই বলেছে, দাবানলের জেরে অল্প সংখ্যক হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সতর্কতা হিসাবে গ্রাহকদের বিকল্প আবাসনে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। রোডসের পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যটকদের নিরন্তর আপডেট দেয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

স্লোভাকিয়া থেকে দমকলকর্মীরা শনিবার রোডসে পৌঁছেছে স্থানীয় দমকল কর্মীদের আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে। স্লোভাক ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস ফেসবুকে পোস্ট করেছে, “রোডসের পরিস্থিতি গুরুতর এবং অত্যন্ত কঠিন। প্রবল বাতাস এবং আগুনের দ্রুত দিক পরিবর্তনের কারণে দমকল কর্মীদের সরে যেতে হয়েছে।”

স্লোভাক উদ্ধারকারী দলের একটি অংশ উপক‚লীয় রিসর্টে পর্যটকদের স্থানান্তরিত করার প্রচেষ্টায় নিরন্তর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রিস এই সপ্তাহান্তে আরও তীব্র তাপের সম্মুখীন, আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত উঠতে পারে।

দেশটির শীর্ষ আবহাওয়াবিদদের একজন বলেছেন, গ্রিসের গত ৫০ বছরের ইতিহাসের মধ্যে এই বছরের জুলাই সবচেয়ে উষ্ণতম হতে চলেছে। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা দেশজুড়ে কয়েক ডজন দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। দক্ষিণ পেলোপোনিজের ল্যাকোনিয়া এবং রোডস দ্বীপের পাশাপাশি এথেন্সের পশ্চিমের একটি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে একটি। তাপ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন দাবানলের উচ্চ ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করছে কর্তৃপক্ষ। লোকদের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, এবং পর্যটন সাইটগুলি আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গ্রিস অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের মতো এই মাসের শুরুতে প্রচণ্ড দাবদাহের শিকার হয়েছে। দেশের পর্যটন শিল্পে সেই আগুনের আঁচ এসে লেগেছে।

সূত্র : বিবিসি

সর্বশেষ - মানিকগঞ্জ