dailynobobarta logo
ঢাকাবুধবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  1. অন্যান্য
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. গণমাধ্যম
  6. ধর্ম
  7. প্রযুক্তি
  8. বাংলাদেশ
  9. বিনোদন
  10. বিশেষ নিবন্ধ
  11. লাইফস্টাইল
  12. শিক্ষা
  13. শিক্ষাঙ্গন
  14. সারাদেশ
  15. সাহিত্য

আওয়ামী লীগ চায় বিজয়, বিএনপি চায় আসন পুনরুদ্ধার!

রবিন তালুকদার, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৩ ৮:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রবিন তালুকদার, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি: রাজধানী ঢাকার সীমান্তবর্তী এবং জেলার প্রবেশ দ্বার হওয়ায় টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) নির্বাচনী আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মির্জাপুর উপজেলা নিয়ে টাঙ্গাইল-৭ নির্বাচনী আসনটি গঠিত। আসনটিতে রয়েছে ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪০ হাজার ৩৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭০ হাজার ৫০১ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৮ জন। এ ছাড়া চারজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।

জেলাতে আসনটি গুরুত্ব বয়ে আনে এই কারণে যে, এখানে গোড়াই এলাকাতে রয়েছে বিশাল শিল্পাঞ্চল, মহেড়াতে রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, কয়েক ইউনিয়নজুড়ে রয়েছে পাহাড়ি বনাঞ্চল, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা প্রতিষ্ঠিত এক হাজার ৫০ বেডের কুমুদিনী হাসপাতাল, ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী মেডিক্যাল কলেজ ও মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫ জন। এর মাধ্যে হিন্দু ভোটার সংখ্যাই হলো ৪৫ হাজার ৯৮১ জন।

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এরই মধ্যে প্রচারে নেমেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। আওয়ামী লীগ চায় আসনটিতে বিজয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে। অপরদিকে বিএনপি চায় দীর্ঘদিন হাতছাড়া হওয়া আসনটি পুনরুদ্ধার করতে।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে আসনটিতে যারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন- ১৯৭৩ সালে ফজলুর রহমান খান ফারুক (আওয়ামী লীগ), ১৯৭৯ সালে শাহ্ মোস্তানজিদুল হক খিজির (বিএনপি), ১৯৮৬ সালে ওয়াজেদ আলী খান পন্নী (জাতীয় পার্টি), ১৯৯১ সালে খন্দকার বদরউদ্দিন (বিএনপি), ১৯৯৬ সালে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (বিএনপি), ২০০১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত একটানা আওয়ামী লীগের প্রার্থী একাব্বর হোসেন। একাব্বর হোসেন এমপি ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে মারা যাওয়ার পর আসনটিতে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উপনির্বাচনে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুকের ছেলে খান আহমেদ শুভ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে
টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনটিতে ক্ষমতাসীন দলটিতে স্পষ্ট গ্রুপিং লক্ষ্য করা গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৃনমূল নেতাদের বাগে আনতে ও কেন্দ্রের নজর কাড়তে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এই তৎপরতায়ও নানা কৌশল অবলম্বন করতে দেখা গেছে অনেক নেতাকে। প্রার্থীদের সম্মিলিতভাবে প্রচার বা সাংগঠনিক কর্মকান্ড না করে এককভাবে তৎপরতা চালাতে দেখা যাচ্ছে।

বর্তমান সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী, সব শ্রেণি-পেশার লোকজন ও সুধীজনদের নিয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরছেন। এলাকার কোথায় কী সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করে সমাধান করার চেষ্টা করছেন। আসনটিতে ৪৫ হাজার ৯৮১টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট রয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারের সঙ্গে খান আহমেদ শুভ একটি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তিনি এলাকায় নিয়মিত উঠান বৈঠক এবং উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। এসব বিষয়ে সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ বলেন, প্রয়াত এমপি একাব্বর হোসেনের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার চেষ্টা করছি। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করতে দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে পরিকল্পনামাফিক প্রত্যেক ইউনিয়নে কর্মী সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছি। দলকে সুসংগঠিত করতে পারলেই নৌকার বিজয় সহজ হবে। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে শতভাগ আশাবাদী জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে মির্জাপুরকে মডেল হিসেবে উপহার দেব।

এবার মির্জাপুর-৭ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন অনেকেই। তারা হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক খান আহমেদ শুভ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান মীর শরীফ মাহমুদ, সাবেক এমপি একাব্বর হোসেনের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার তাহীম হোসেন সীমান্ত,

মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ লিটন। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবার্হী কমিটির সদস্য, মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও মধুমতি ব্যাংকের পরিচালক রাফিউর রহমান খান ইউসুফজাই সানি, মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল, উল্লেখিত দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে মীর শরীফ মাহমুদ, তাহীম হোসেন সীমান্ত, আবুল কালাম আজাদ, সবাই ইউনিয়নগুলোতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা, সমাবেশ করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদান করেও তারা নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান মীর শরীফ মাহমুদ বলেন- আমি বিগত ৪৩ বছর যাবত মির্জাপুরের আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমি মির্জাপুর কলেজের সাবেক ভিপি, সাবেক উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক সাধারন সম্পাদক এবং বর্তমানে সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করছি। আমার ১৪৪ টা ওয়ার্ড আমি নিজের হাতে গঠন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের চিত্র লিফলেট আকারে জনগনের ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছি। এছাড়াও সংগঠনের ভিত মজবুত করতে এবং আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে আমরা তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের কমিটি পুনর্গঠন করতে সক্রিয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মশালা করে যাচ্ছি। প্রতিদিন উঠান বৈঠক করে যাচ্ছি। তৃনমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে আমার দলের প্রতি আনুগত্যের অগনিত প্রমান রয়েছে এবং আমার যথেষ্ট গ্রহন্যোগ্যতাও রয়েছে। আমি ছয়বার মনোনয়ন চেয়েছি, কিন্তু পাইনি। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে শতভাগ আশাবাদী বলে তিনি জানান। আগামীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি আমি আওয়ামীলীগের আসন হিসেবে নেত্রীকে উপহার দিতে পারবো বলে আশাবাদ ব্যক্ত করি।

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে প্রয়াত এমপি একাব্বর হোসেনের ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার তাহীম হোসেন সীমান্ত বলেন, আমার বাবাকে মির্জাপুরের মানুষ ভালোবেসে চারবার এমপি বানিয়েছিল। আমি তার সন্তান হিসেবে তার পথ অনুসরণ করে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। গতবার মনোনয়ন চেয়েছিলাম। তবে এবার তিনি অত্যন্ত আশাবাদী বলে জানান। মনোনয়ন যাকেই দেওয়া হোক, দলের পক্ষে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি। সীমান্ত আরও বলেন, এছাড়া আমার প্র‍্যয়াত বাবা চারবার এমপি থাকাবস্থায় মির্জাপুর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এজন্য একাব্বর হোসেনের ছেলে হিসেবেও মানুষ আমাকে ভালোবাসে। তাছাড়া ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্ত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত সভা সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান নেতাকর্মীরা।

নেতাকর্মীরা আরও বলেন, উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী এবং সদরের পার্শ্ববর্তী ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রাম রয়েছে। সদর সহ উপজেলার সর্বত্র গ্রাম দুটির প্রভাব রয়েছে। পুষ্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন টানা চারবারের এমপি প্রয়াত একাব্বর হোসেন। তিনি দুই যুগের বেশি সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে গোড়াইল গ্রামের প্রভাবও রয়েছে বেশ শক্ত। গোড়াইল গ্রামের বাসিন্দা ১৫ ফেব্রম্নয়ারির নির্বাচনসহ দুুইবারের সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। তার বাড়ি গোড়াইল গ্রামে হলেও বসবাস করেন পৌর এলাকার গাড়াইল গ্রামে। এজন্য শহর কেন্দ্রীক দুই দলের রাজনীতি বেশ শক্ত। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী অথবা পুষ্টকামুরী গ্রামের সন্তান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ—সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদ সোহরাব পেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ আসনে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে চারবার পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন একাব্বর হোসেন। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন সদর কেন্দ্রীক জনবান্ধব ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে না দেয়া হলে পরাজয়ের আশঙ্কা রয়েছে। শুধু পরাজয় নয়, ভবিষ্যতে সদরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন নেতাকর্মীরা।

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অপর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ লিটন বলেন, আমি মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই বার সহ- সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। আমি ৪০ বছর যাবত মির্জাপুরের রাজনীতির সাথে জড়িত। এছাড়া হংকং আওয়ামী লীগের এ ৩ বারের সাবেক সভাপতি। আমি দলীয় মনোনয়ের প্রাপ্তির বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী। কারন আমার সততা, মানবতা ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছি সারাজীবন। আমি মির্জাপুরে “মানবতায় আমরা” ফাউন্ডেশন এর মাধম্যে অসুস্থ, অসচ্ছল মানুষদের পাশে থাকি সবসময়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আমি এই মির্জাপুরকে আধুনিক তিলোত্তমা মির্জাপুর গড়বো ইনশাআল্লাহ। মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স থেকে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ অটিস্টিক শিশুদের জন্য একটি মানসম্মত হাসপাতাল এবং স্কুল প্রতিষ্ঠা করবো। দলীয় মনোনয়ন পেলে আমি জয়ের ব্যপারে শতভাগ আশাবাদী। কারন তৃনমূলের মানুষ আমাকে ক্লীন ইমেজের মানুষ হিসেবেই জানে তাই আমি মনোনয়ন পেলে মির্জাপুর আসনে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চাই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য রাফিউর রহমান খান ইউসুফজাই সানি বলেন স্মার্ট, সুশাসিত, সচ্ছল, তিলোত্তমা মির্জাপুর গড়ে তুলতে আমি বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে আমি কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। প্রতিটি দরিদ্র পরিবার থেকে যোগ্যতা অনুযায়ী অন্তত একজনকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থ্যা করা, মাদক নির্মূল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রীর ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়ন করতে চাই। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর সেবায় আত্মনিয়োগ করে আসছি। ভবিষ্যতেও তাদের সবার পাশে থাকতে চাই।

অপরদিকে, এ আসনটিতে বিএনপিকে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রের কোনো নির্দেশনা না আসায় নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো তৎপরতা চালাতে দেখা যাচ্ছে না। তবে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার হটানো ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। দলটিতে রয়েছে পুরনো গ্রুপিং ও কোন্দল। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানায়, আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি ছিল। প্রার্থী বাছাইয়ের কারণে এ আসনটি বিএনপিকে বারবার হাতছাড়া করতে হচ্ছে। তারা মনে করেন, ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন) বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী নয়, এখানে ধানের শীষ জয়লাভ করেছিল। পরবর্তীতে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর কারণে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়।

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন চাই। সেই দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছি। দাবি পূরণ হলে অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নেব।

অপর দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী সাইদুর রহমান সাঈদ সোহরাব বলেন- আন্দোলন ও দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি একসঙ্গে চলছে। মির্জাপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা চাচ্ছে নতুন মুখ। আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর অতীতের জনপ্রিয়তা এখন আর নেই। গত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন। এবার মনোনয়ন পরিবর্তন করে তাকে মনোনয়ন দিলে দলের সবস্তরের নেতাকর্মী মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়বে এবং বহু দিনের হাতছাড়া আসনটি পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

মির্জাপুর আসনটিতে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন ওয়াজেদ আলী খান পন্নী। এর পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে দুইবার অংশগ্রহণ করলেও বিজয়ী হতে পারেনি। তবে আসনটিতে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জহিরুল ইসলাম প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। তিনি স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জহিরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখী দল। আগামী দ্বাদশ জাতীয়

সংসদ নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেশের সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এ জন্যই দেশের মানুষ জাতীয় পার্টিকে নিরাপদ মনে করে ভোট দেবে।

১৪ দলের অন্যতম শরিক ওয়ার্কাস পার্টি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি গোলাম নওজব পাওয়ার চৌধুরী আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বাসনায় তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে দলটি থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন, সে বিষয়ে এখনো জানা যায়নি।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টি (জেপি), খেলাফত মজলিস, জাসদ, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইত্যাদি ছোট ছোট দলগুলোর প্রার্থীরা এখনোও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়নি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াত বা ইসলামী দলগুলোর তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। জাতীয় রাজনীতির গতি-প্রকৃতি দেখে তারা সিদ্ধান্ত নেবে বলে দলগুলোর সূত্রে জানানো হয়েছে।

রবিন তালুকদার, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি | Website | + posts

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।