dailynobobarta logo
আজ বুধবার, ২ আগস্ট ২০২৩ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | কনভার্টার
  1. অন্যান্য
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. গণমাধ্যম
  6. ধর্ম
  7. প্রযুক্তি
  8. বাংলাদেশ
  9. বিনোদন
  10. বিশেষ নিবন্ধ
  11. লাইফস্টাইল
  12. শিক্ষা
  13. শিক্ষাঙ্গন
  14. সারাদেশ
  15. সাহিত্য

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সাবেক শিক্ষার্থীরা

প্রতিবেদক
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
বুধবার, ২ আগস্ট ২০২৩ | ১১:৩২ অপরাহ্ণ
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সাবেক শিক্ষার্থীরা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু হল খোলা রাখার দাবিতে উপাচার্যের সাথে সাক্ষাতে ব্যর্থ হয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মুঠোফোনে বলা ১০ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের সেই কথায় নিজের ফোনের জন্য বহিষ্কৃত হলো কথা বলা শিক্ষার্থীদের মেহেদী হাসান।

গ্রীষ্ম ও ইদ-উল-আযহা দুই উপলক্ষ্যে আবাসিক হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে হল প্রশাসনগুলোর এমন সিদ্ধান্ত পুনরায় বিবেচনার জন্যে প্রভোস্ট কাউন্সিল সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু হল প্রভোস্ট মাসুম হাওলাদারের কাছে আবেদন জানায় শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের সাথে আলোচনায় হল খোলা রাখার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাবার আশ্বস্ত করে শিক্ষার্থীদের হলে ফিরতে বলেন এই শিক্ষক।

তবে ১৮ জুন শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ ও ইতিবাচক সিদ্বান্ত না আসায় বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এমন সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের মেহেদি হাসানের ফোন থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখরের সাথে চার-পাঁচজন শিক্ষার্থীর কথোপকথন চলে। সেই কথোপকথনের বিভিন্ন অংশে শিক্ষার্থীদের হল খোলা রাখার দাবি জানাচ্ছিল।

অন্যদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলছিলেন, ‘না সম্ভব নয়, নিয়মের বাইরে গিয়ে হল আমি খোলা রাখবো না।’ এমন কথা শুনে শিক্ষার্থীরা শ্লোগান দিতে থাকলে উপাচার্য একাডেমিক ভাবে ফলাফল বিপর্যয়ের কথাও বলেন বলেও সেই অডিওতে শোনা যায়। উপাচার্যের এমন হুমকি প্রদানে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালায় সমালোচনা।

গত ১৮ জুনের সেই অডিও কলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেহেদি হাসান নামের শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার সহ কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদাণ করে। এতে উপাচার্যের অনুমতি না নিয়ে ফোন কল রেকর্ড ও তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত না মেনে প্রোপাগাণ্ডা তৈরীর চেষ্টা সহ জাতীয় ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উস্কানি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে এই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

গত ৩০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় মেহেদি হাসানকে সাময়িক বহিষ্কার করা ও কেনো তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে চিঠিও পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি এই ঘটনায় জড়িত অন্যদের তথ্য উদঘাটনেও তদন্ত কমিটি করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শিক্ষার্থী বহিষ্কারের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। কমিটি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে অনুযায়ী তারা কাজ করবে। শুধু ফোনকল করার জন্যে তাকে বহিষ্কার করা হয়নি তা রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় যা তার জন্য আইনগত অপরাধ হয়েছে।

প্রক্টর সঞ্জয় মুখার্জি বলেন, ‘এটা কমিটির সিদ্ধান্ত। কমিটি যা মনে করেছে সেটিই করেছে। এখানে আমার মন্তব্যের কিছু নেই। অন্যদিকে এই নিয়ে ভয়ে কোন কথাই বলছে না বহিষ্কার হওয়া লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টরও একই বিভাগের শিক্ষক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামজিক বিজ্ঞান অনুষদের এক শিক্ষক বলেন, ‘এভাবে কিছু হলেই বহিষ্কার করে দেয়া কখনোই ভালো সিদ্ধান্ত নয়। আরো সুন্দরভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া যেত। শিক্ষার্থী ভুল করলে তাকে শাসন অবশ্যই করবো সে ছোট। আমরা বড় হয়ে বড় ভুল করলে আমাদের আমরা কিভাবে ক্ষমা করবো?’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবী নিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলার জন্য কোন শিক্ষার্থীকে এভাবে প্রশাসন বহিষ্কার করার জন্য শোকজ দিতে পারে না। এটা তাহলে বলতেই হবে প্রশাসন এক তরফা মনগড়া ভাবে চলতে চাইতেছে। তাদেরকে এটা মাথায় রাখতে হবে যে শিক্ষার্থীদের জন্যই তারা, তাদের জন্য শিক্ষার্থীরা না। আর তাছাড়া শিক্ষার্থীদের সরাসরি বলেই দেওয়া হয়েছে ভিসি স্যার চাইলে হল খোলা রাখা যাবে অন্যথায় হল কোন ভাবেই খোলা রাখা যাবে না, তাই শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ভিসি স্যারের সাথে যোগাযোগ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন কর্মকাণ্ডে বিচলিত ও ক্ষুব্ধ প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থীরা।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
+ posts

সর্বশেষ - মানিকগঞ্জ