ভর্তি যুদ্ধে এমসি কলেজ,শৃঙ্খলার ছায়ায় পরীক্ষা,লোডশেডিং-জ্যামে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

মোঃ তাজিদুল ইসলাম : সিলেটের শিক্ষা অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন পার করলো ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ মুরারিচাঁদ কলেজ। প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকেই পরীক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর ছিল বিভিন্ন কেন্দ্র, আর কেন্দ্রের আশপাশে ছিল অভিভাবকদের ভিড়, যানজট এবং নানা ধরনের ব্যস্ততা সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ মুরারিচাঁদ কলেজ সিলেটে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরিক্ষা শুরু হয়েছে।

এমসি কলেজ,মীরাবাজার জামেয়া, আল আমিন জামেয়া ও হাতিম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র শনিবার ১১ ঘটিকায় পরিক্ষা শুরু হয়।

পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আগের দিন থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি ও উদ্বেগ। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শুরু হলেও কেন্দ্রগুলোর বাইরে ছিল চিরচেনা চাপ—যানজট, ভিড় এবং দিকনির্দেশনার ব্যস্ততা।

এমসি কলেজে ভর্তি পরিক্ষার সার্বিক পরিসংখ্যানে সর্বমোট পরিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮ হাজার ৩৮৮ জন। উপস্থিত ছিলেন ৭ হাজার ২১৪ জন শিক্ষার্থী। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ১৭৪ জন শিক্ষার্থী। মানবিক বিভাগের পরিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ৩৯৬ জন, উপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৫৭ জন, অনুপস্থিত ছিলেন ৩৩৯ জন শিক্ষার্থী।

বিভাগভিত্তিক অংশগ্রহণের এই চিত্র থেকেই বোঝা যায়, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র ছিল। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

বিজ্ঞান বিভাগের পরিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ৪ হাজার ৬৪১ জন, পরিক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৮৩৩ জন, অনুপস্থিত ছিলেন ৮০৮ জন।বাণিজ্য বিভাগের পরিক্ষার্থী মোট সংখ্যা ৩৫১ জন, উপস্থিত ছিলেন ৩২৪ জন, অনুপস্থিত ছিলেন ২৭ জন।পরীক্ষা পরিচালনার সুবিধার্থে একাধিক কেন্দ্রে ভাগ করে নেওয়া হয় পুরো কার্যক্রম। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশাসনিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

ভেন্যু এমসি কলেজ পরিক্ষা কেন্দ্রে মোট পরিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ হাজার ৬৬৪ জন, উপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৮৩ জন, অনুপস্থিত ছিলেন ৫৮১ জন। মীরাবাজার কেন্দ্রে মোট পরিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৪৪০ জন, উপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ২৬৭ জন, অনুপস্থিত ছিলেন ১৭৩ জন।

হাতিম আলী পরিক্ষা কেন্দ্রে মোট পরিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৪৬০ জন, উপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ২০০ জন, অনুপস্থিত ছিলেন ২৬০ জন।আম আমিন জামেয়া পরিক্ষা কেন্দ্রে মোট পরিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৩০ জন, উপস্থিত ছিলেন ৬৭০ জন, অনুপস্থিত ছিলেন ১৬০ জন।

উক্ত পরিক্ষা কেন্দ্র গুলোতে সুশৃঙ্খলভাবে পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাস্তাঘাটে যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের প্রচুর জ্যাম হয়েছে। কেন্দ্রগুলোর ভিতরে এমসি কলেজ রিপোর্টাস ইউনিট, রোভার স্কাউট গ্রুপ, বিএনসিসি সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন গুলো সার্বিক ভাবে পরিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেন।

শুধু সামাজিক সংগঠনই নয়, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ায়। তারা পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করে।

রাজনৈতিক দলের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস তাদের সংগঠনর নিজ নিজ নামে একেকটা হেল্প ডেক্স তৈরি করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের মোবাইল, ম্যাগ অভিভাবকদের বসার স্থান করেছে তারা।

তবে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালো থাকলেও কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অনেকেই ভোগান্তির কথা জানান।

অনেক পরিক্ষার্থীরা বলেন, ১ ঘন্টা পরিক্ষা সময়ে ৫/৬ বার কারেন্ট যাওয়াআসা করছে। আমাদেরলেখার মধ্যে ব্যাগাত ঘটছে। লোডশেডিংএ কারনে গরমে অতিষ্ঠ ছিল পরিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষা শুরুর আগ থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি ও গণমাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এমসি কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিট। তাদের উদ্যোগে অনেক শিক্ষার্থী ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পেরেছে।

এমসি কলেজ রিপোর্টাস ইউনিটের সভাপতি মুছলেহ উদ্দিন মুনাঈম বলেন, গত ১ সাপ্তাহ ধরে আমরা কলেজে ভর্তি পরিক্ষা বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকা, টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার করে আসছি। আসন বিন্যাস কার কোথায় সিট পড়েছে সেগুলো প্রচার করেছি। আমাদের রিপোর্টাস ইউনিট মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে বসে সহজে শীট প্লান সহ সব বিষয় জানতে পেরেছে।

পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারা জানান, কঠোর নিরাপত্তা ও নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

এসময় মুরারিচাঁদ কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা সকাল থেকে সকলে এসেছি সুশৃঙ্খলভাবে পরিক্ষার্থীরা কলেজে প্রবেশ করেছে, এবং কোনো শিক্ষার্থী হেনেস্তার শিকার হয় নাই। তিনি আরও বলেন মোবাইল, ক্যালকুলেট, আর বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক ডিজাইন নিয়ে প্রবেশ করার সুযোগ দেওয়া হয় নাই। কলেজ গেইটে চেকিং করা হয়েছে। কেউ কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয় নাই। পরিক্ষার নিয়মশৃঙ্খলা অত্যন্ত চমৎকার ছিল।

সার্বিকভাবে বলা যায়, কিছু সীমাবদ্ধতা ও সাময়িক সমস্যার মধ্যেও সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশে এমসি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং সহযোগিতামূলক উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *