মধ্যরাতে হাতিরঝিলে ইতিহাস গড়া নারী ফুটবলারদের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দিল বাফুফে

ক্রীড়া ডেস্ক : এএফসি নারী এশিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে সম্মান জানাতে বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। রবিবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল এম্ফিথিয়েটারে এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।

রাত প্রায় দেড়টার দিকে মিয়ানমার থেকে থাইল্যান্ড হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় আফিদা-ঋতুপর্ণারা। সেখান থেকে তাঁদের সরাসরি নেওয়া হয় হাতিরঝিলে। গভীর রাত হলেও সেখানে জড়ো হয়েছিলেন হাজার খানেক দর্শক, মুখে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ ধ্বনি আর হাততালির ঝংকারে ফুটবলারদের বরণ করে নেন তাঁরা।

রাত ৩টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হয়। হাতিরঝিলের উন্মুক্ত মঞ্চে একে একে ডাক পড়ে রুপণা চাকমা, শিউলি, শামসুন্নাহার, আফিদা, তহুরা, কোহাতি, মনিকা, মারিয়া, ঋতু ও অন্যান্যদের। বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

এই জমকালো আয়োজনে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক, উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল, নারী দলের অধিনায়ক আফিদা খন্দকার প্রান্তি, ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা এবং কোচ পিটার বাটলার। বক্তারা এই সাফল্যকে ‘জাতীয় গর্বের এক উজ্জ্বল মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যা দেন।

তরুণ ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা বলেন,‘আজকের যে পর্যায়ে এসেছি আমরা, এটা একটা টিম ওয়ার্কের ফল। ফুটবল কোনো ব্যক্তিগত খেলা নয়। বাংলাদেশের মেয়েরা জানে কীভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করতে হয়। আপনারা আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখুন, আমরা আপনাদের নিরাশ করব না। আমরা শুধু এশিয়াতেই নয়, বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যেতে চাই।’

রাতের এই আয়োজনের পেছনে ছিল সময়ের সীমাবদ্ধতা। বাফুফে জানায়, দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমা ও মনিকা চাকমা সোমবার ভোরেই ভুটানে পাড়ি দিয়েছেন। এছাড়াও আরও তিনজন খেলোয়াড় খুব শিগগিরই দেশের বাইরে যাবেন। তাই পুরো দলকে একত্রিত রেখে এই অনন্য অর্জনের তাৎক্ষণিক সম্মান জানাতেই এমন মধ্যরাতের সংবর্ধনার আয়োজন।

নারী ফুটবলারদের এই সাফল্য শুধু একটি খেলার জয় নয়, এটি বাংলাদেশ নারী ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি যুগান্তকারী মাইলফলক—যা দেশের ক্রীড়াচর্চা ও সামাজিক অগ্রগতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *