ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের ‘মধুর প্রতিশোধ’

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আজ মুখোমুখি হয়েছে নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড। কিউইদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে আজ টসে হেরে আগে ব্যাট করে ইংলিশরা। ব্যাট হাতে আশানরূপ পারফর্ম্যান্স করতে না পারায় জস বাটলারের দল থামে ২৮২ রান করেই।

পরে ইংল্যান্ডের দেয়া ২৮৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো না হলেও প্রবল প্রতাপে ঘুরে দাঁড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ওপেনার ডেভন কনওয়ে এবং রাচীন রবীন্দ্র মিলে করেছেন রেকর্ড গড়া ২৭৩ রান। বিধ্বংসী এ জুটিতেই আজ ইংলিশদের বিপক্ষে ৯ উইকেটের জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড।

২৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আজ শুরুটা ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডের। দলীয় ১০ রানেই ওপেনার উইল ইয়াং কে হারায় তারা। পরে অবশ্য দুর্দন্ড প্রতাপে ঘুরে দাঁড়িয়েছে কিউইরা। আরেক ওপেনার কনওয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রবীন্দ্রকে সঙ্গে নিয়ে ইংলিশ বোলারদের উপর ব্যাট হাতে চালিয়েছেন রোলার কোস্টার।

ফলে আর কোনো উইকেট না হারিয়েই ৩৬.২ ওভারে ২৮৩ রানের দেখা পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। এদিকে মারমুখী ব্যাটিংয়ে আজ কনওয়ে এবং রবীন্দ্র মিলে গড়েছেন অপরাজিত ২৭৩ রানের জুটি। ইংলিশ বোলারদের আজ কিউই এ দুই ব্যাটার মিলে করেছেন তুলোধুনো। ব্যাট হাতে মারমুখি ব্যাটিংয়ে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন কনওয়ে। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকেন ১২১ বলে ১৯ চার এবং ৩ ছয়ে ১৫২ রান করে। অন্যদিকে কনওয়েকে আজ যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন রবীন্দ্র। ব্যাট হাতে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি। ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই তিনি পেয়েছেন অপরাজিত শতকের দেখা, করেছেন ৯৬ বলে ১২৩ রান। কনওয়ে-রবীন্দ্রের ঝড়ো ব্যাটিংয়েই আজ ৯ উইকেট আর ৮২ বল হাতে রেখেই জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড।

এর আগে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিং করতে নামে ইংল্যান্ড। ব্যাট হাতে আগ্রাসী মেজাজে অবতীর্ণ হন ইংলিশ ওপেনার জনি বেয়ারস্টো। ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই ট্রেন্ট বোল্টকে লেগ সাইড দিয়ে ছক্কায় ওড়ান তিনি। একটি চারও মারেন একই ওভারে। প্রথম ওভার থেকে ১২ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড।

পাওয়ার প্লের অষ্টম ওভারে ব্যক্তিগত ১৪ রানে আউট হন ওপেনার মালান। দলীয় ৬৪ রানে স্যান্টনারের বলে ৩৩ রানে ফেরেন আরেক ওপেনার বেয়ারেস্টো। হ্যারি ব্রুক টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ৪টি চার ও এক ছয়ে ২৫ রান করে ফিরে যান। মঈন আলিও বেশিক্ষন টিকতে পারেননি। মাত্র ১১ রানে বোল্ড হন ফিলিপসের বলে। ১১৮ রানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি উইকেট হারায় বাটলারের দল।

পঞ্চম উইকেট জুটিতে অধিনায়ক বাটলার ও রুট ৭০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। বাটলারকে ৪৩ রানে আউট করে জুটি ভাঙেন কিউই পেসার ম্যাট হেনরি। ২২১ রানে লিভিংস্টোন ও ২২৯ রানে সর্বোচ্চ ৭৭ রান করা রুট সাজঘরে ফেরেন। টেল এন্ডারদের দৃঢ়তায় ২৮২ রানের সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন হেনরি। এছাড়া দুইটি করে উইকেট নেন স্যান্টনার ও ফিলিপস।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *