অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ভারতের শুভসূচনা

বিশ্বকাপের ১৩তম আসরের পর্দা উঠেছে ৫ অক্টোবর। চতুর্থ দিনে এসে শুরু হচ্ছে স্বাগতিক ভারতের বিশ্বকাপ মিশন। প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টের সফলতম দল অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ আর ভারতের তৃতীয় শিরোপা মিশন। এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। আগে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের তোপে ১৯৯ রানে গুটিয়ে যায় অজিরা। সে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পরে ভারত। সেখান থেকে কোহলি-রাহুলের অর্ধশতকে ৫২ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় পায় রোহিত শর্মার দল।

২০০ রানের লক্ষ্যে ভারতের হয়ে এদিন ওপেনে ব্যাট করতে আসেন রোহিত শর্মা ও ইশান কিষান। তবে শুরুটা ভালো করতে পারনেনি ভারতীয় ওপেনাররা। ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা না খুলতেই আউট হয়েছেন ভারতীয় ব্যাটার ইশান। অন্যদিকে রানের খাতা খুলতে পারেননি রোহিত শর্মাও।

দ্বিতীয় ওভার করতে আসা জশ হ্যাজলউডের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ভারতীয় অধিনায়ক। অপরদিকে রোহিত ফেরার পর মাঠে নেমে থিতু হতে পারেননি শ্রেয়াস আইয়ারও। রানের খাতা খোলার আগে তিনিও ফিরেন হ্যাজলউডের বলে ক্যাচ হয়ে।

এরপর চতুর্থ উইকেটে লোকেশ রাহুলকে সঙ্গে নিয়ে শুরু চাপ সামল দেন কোহলি। এক প্রান্তে কোহলি ও অন্য প্রান্তে রাহুল এই দুই ব্যাটার দেখে শুনে খেলে ১৬৫ রানের জুটি গড়েন। তবে দলীয় ১৬৭ রানে কোহলি আউট হলে ভাঙে এই জুটি। ১১৬ বলে ৬ চারে ৮৫ করেন তিনি। কোহলি আউট হলেও রাহুলের ৯৭ রানের ইনিংসে জয়ের ৬ উইকেটের জয় পায় রোহিত শর্মার দল।

এর আগে চেন্নাইয়ের চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে ম্যাচটিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ। ম্যাচের শুরু থেকেই দেখে শুনে খেলতে থাকেন এ দুই ওপেনার। তবে দলীয় তৃতীয় ওভারের মাথায় জাসপ্রিত বুমরাহার বলে বিরাট কোহলির হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরেন মিচেল মার্শ। শূণ্য রানে আউট হয়েছেন তিনি। এরপর মাঠে নামেন স্টিভ স্মিথ।

এই দুই অজি ব্যাটার দেখে শুনে খেলে ৬৯ রানের জুটি গড়েন। তাদের দুইজনের জুটিতে চাপ কাটিয়ে অর্ধশত রান পার করে টিম অস্ট্রেলিয়া। তাতে অজি শিবিরে কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করে। তবে দলীয় ১৬.৩ ওভারে ঘটে বিপত্তি। ওয়ার্নারকে ক্যাচ আউট করেন কুলদীপ যাদব। ৫২ বলে ৪১ রান করেন তিনি। ওয়ার্নার অবশ্য আউট হওয়ার আগে বিশ্বকাপে একটি রেকর্ড গড়েন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম এক হাজার রান করেছেন তিনি।

মাত্র ১৯ ইনিংসে হাজার রানের ক্লাবে ঢুকেছেন তিনি। পেছনে ফেলেছেন ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে। এতদিন শীর্ষে থাকা শচীন ২০ ইনিংসে এক হাজার রান পূরন করেছিলেন। সমান সংখ্যক ইনিংসে হাজার রানের ক্লাবে ঢুকেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটার এবি ডি ভিলিয়ার্সও।

এদিকে ওয়ার্নার আউট হলে তৃতীয় উইকেটে ব্যাটে আসেন মার্নাশ লাবুশেন। তাকে নিয়ে দলের রানের চাকা সচল রাখে স্মিথ। তবে ব্যাক্তিগত অর্ধশত রান থেকে ৪ রান দূরে থাকতে জাদেজার বলে আউট হয়ে সাজঘরে পথ ধরেন তিন। এরপর অবশ্য উইকেটে বেশিক্ষণ টিকেননি লাবুশেনও। তিনিও দলীয় ১১৯ রানে জাদেজার বলে আউট হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন। এরপর উইকেটে আসা এলেক্স ক্যারিও টিকতে পারেননি, রানের খাতা খোলার আগেই একই ওভারে জাদেজার শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি।

পরে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে অজিরা। শেষ দিকে ২৪ রানের জুটি গড়েন মিচেল স্টার্ক ও অ্যাডাম জাম্পা। তবে দলীয় ১৮৯ রানে অ্যাডাম আউট হলে অন্য প্রান্ত আগলিয়ে রেখে রাখেন মিচেল স্টার্ক। শেষ দিকে তিনি ২৮ রানের ইনিংস খেললেও দলীয় ১৯৯ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। বল হাতে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন জাদেজা।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *