
ওয়ানডে সুপার লিগে তিন নম্বরে থেকে বিশ্বকাপে আসা বাংলাদেশ দল যেন ক্রিকেটটাই ভুলে গিয়েছে। বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জয়ের পর জয় শব্দটাই যেন দেখতে পাচ্ছে না টাইগাররা। সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে টানা পাঁচ ম্যাচ হারার পর আজ কলকাতায় পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। নতুন প্রতিপক্ষ পেলেও ফলাফল বদলাতে পারেনি টিম টাইগার্স। ইডেন গার্ডেন্সে বাংলাদেশের দেওয়া ২০৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দাপটের সঙ্গে ১০৫ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। বড় ব্যবধানে লজ্জার এই হারের ফলে টানা ছয় ম্যাচ হারল সাকিবের দল।
২০৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতেই পাকিস্তান ১২৮ রান তুলে। অবশেষে সেই ওপেনিং জুটিটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আবদুল্লাহ শফিককে এলবিডব্লিউ করে ফেরান এই অফস্পিনার। ৬৯ বলে ৯ চার আর ২ ছক্কায় শফিক করেন ৬৮ রান।
পাকিস্তানের যে উইকেটগুলো পড়েছে সবগুলোই পেয়েছেন মিরাজ। বাবর আজমকে তিনি ফেরান ৯ রানে। সেট ব্যাটার ফখর জামানও শিকার হন মিরাজের। ৭৪ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলে ফর্মে ফেরা ফখর ৩টি চারের সঙ্গে হাঁকান ৭টি ছক্কা। রিজওয়ান ও ইফতেখার দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।
এর আগে, ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসান তামিমকে আউট করেন আফ্রিদি। তামিমের পর ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন শান্তও। চলমান বিশ্বকাপে বাজে সময় পার করা শান্ত উসামা মিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৪ রান করে আউট হন। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম হারিস রউফের শিকার হলে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
২৩ রানে তিন উইকেট হারানো বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান লিটন দাস ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৬ চারে ৬৪ বলে ৪৫ রান করে ইফতেখার আহমেদের বলে শট খেলতে গিয়ে আগা সালমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। লিটনের বিদায়ে ৮৯ বলে ৭৯ রানের দুর্দান্ত এক জুটিরও অবসান ঘটে।
একপ্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি তুলে নেন রিয়াদ। আফ্রিদির বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৭০ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। সাকিব ফেরেন ৬৪ বলে ৪৩ রান করে। এরপর তাওহীদ হৃদয়, মিরাজরা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হলে ২০৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ওয়াসিম।