বিলডাকিনি চলচ্চিত্রের প্রযোজক কর্তৃক মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদ

গত ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে “দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইন-ittefaq.com.bd” এবং গত ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে “দৈনিক আমাদের সময়- dainikamadershomoy.com”, “দৈনিক নওরোজ- nawroj.com.bd”, “ঢাকা টাইমস ২৪-dhakatimes24.com”, “বিবার্তা২৪- bbarta24.net “, “ডেইলি মেসেঞ্জার- dailymessenger.net “ প্রতিকায় প্রকাশিত হয়েছে একটি সংবাদ যার শিরোনাম “‘বিলডাকিনি’র চিত্রনাট্য চুরির অভিযোগ মিথ্যা, দাবি প্রযোজকের”।

উক্ত শিরোনামের সংবাদে প্রযোজক আব্দুল মমিন খান দাবি করেছেন, বিলডাকিনি চিত্রনাট্য চুরির অভিযোগ মিথ্যা। প্রমান স্বরুপ তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি প্রেরণ করেছেন, যে চিঠিটি “ডেইলি মেসেঞ্জার” প্রকাশ করেছে।

চিত্রনাট্য পরিবর্তনের অনুমোদন হয়েছে ০৪ জুন, ২০২৩ তারিখে। (আইনত চিত্রনাট্য পরিবর্তন করার কোন বিধান নেই) অথচ বিভিন্ন গনমাধ্যমে বিলডাকিনি সিনেমার শুটিং শুরুর তারিখ প্রকাশিত হয়েছে ১২ জানুয়ারী, ২০২২ তারিখ।

মন্ত্রণালয় চিত্রনাট্য পরিবর্তন করার যে অনুমোদন দিয়েছে সেখানে তথ্য গোপন করে জালজালিয়াতি হয়েছে, কারণ সিনেমা শুটিং এর প্রায় ১৬ মাস পরে চিত্রনাট্য পরিবর্তন করলেও প্রযোজক নতুন করে শুটিং করেননি, প্রকৃতপক্ষে বিলডাকিনি চলচ্চিত্রের অনুদানের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে ২০ জুন, ২০২০ তারিখে এবং যে চিত্রনাট্যের কারণে অনুদান বরাদ্ধ হয়েছে সেই চিত্রনাট্যেই শুটিং হয়েছে। অপরাধী আসলে নিজের অপরাধ আড়াল করার জন্য মন্ত্রণালয়কে ভুল পথে পরিচালিত করতে অসৎ পন্থা অবলম্বন করে চিত্রনাট্য পরিবর্তনের একটি অনুমোদন নিয়েছে, যা চলচ্চিত্র অনুদান নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ নয়।

উক্ত সংবাদে আমি আরো দেখতে পাই যে, প্রযোজক আব্দুল মমিন খান দাবি করেছেন, অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র বিলডাকিনির প্রস্তাবিত পরিচালক মনজুরুল ইসলাম এর পরিবর্তে ফজলুল কবির তুহিনের নামে মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছেন ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখে। অথচ ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তারিখে সময় টিভির অনলাইনে প্রকাশিত একটি সংবাদে অনুদান কমিটির সদস্য ড. ইনামুল হক দাবি করেছেন, মন্ত্রণালয় এখনো তাঁকে কিছু জানায়নি, তবে তিনি মনজুরুলের নিকট থেকে অনিয়মের বিষয়টি অবগত হয়েছেন। অনুদান কমিটির সদস্যকে না জানিয়ে যেটি অনুমোদিত হয় সেটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বেআইনী। মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন অভিযুক্ত প্রযোজক আব্দুল মমিন খান এবং অতিরিক্ত সচিব ড. জাহাঙ্গীর আলম (নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর) সরকারী চিঠি গোপন রেখে অনুমোদন করিয়ে নিয়েছেন, অবৈধ পন্থা অবলম্বণ করে।

উল্লেখ্য, ফজলুল কবির তুহিন একই গেজেটের “গাংকুমারী” নামে আরো একটি সিনেমার প্রযোজক ও পরিচালক। অনুদান নীতিমালা অনুযায়ী একই পরিচালক একই গেজেটের দুটি সিনেমা নির্মান করতে পারেননা। এখানেও আইন অমান্য করা হয়েছে।

সরকারী অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের নীতিমালা ও চুক্তিপত্র আইন অনুযায়ী প্রস্তাবিত চিত্রনাট্য ও প্রস্তাবিত পরিচালক পরিবর্তন করার কোন বিধান নেই। অনুদান বাছায় কমিটি ও অনুদান কমিটি কয়েকটি ধাপে চলচ্চিত্র অনুদানের জন্য অনুমোদন দিয়ে থাকেন। অনুদানপ্রাপ্ত চিত্রনাট্যের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পরিবর্তন করা যায়। সম্পূর্ণ চিত্রনাট্য পরিবর্তন করা যায় না, কেনোনা অনুদান টা আসলে চিত্রনাট্য ও পরিচালকের উপর ভিত্তি করেই প্রদান করা হয়।

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্তর বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ
নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর

অভিযুক্ত আব্দুল মমিন খান, অতিরক্তি সচিব ড. জাহাঙ্গীর আলম ওরফে নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীরের সাথে যোগসাজসে অসৎ পন্ধা অবলম্বন করে সরকারী অর্থ আত্নসাতের জন্য ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে চলচ্চিত্র অনুদান হস্তগত করেছেন। তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আমি বাধা দিলে বেআইনী ভাবে আমাকে বাদ দেওয়ার জন্য আইন অমান্য করে বেআইনী পন্ধা অবলম্বন করেছেন, বে আইনী ভাবে আমার থেকে ২০ লাখ টাকা দাবি করলে আমি সেটি না দেওয়ায় তারা আমার বিরুদ্ধাচারণ করে, যার প্রমাণ ইতোপূর্বে আমি মন্ত্রণালয়কে পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয়ে আমার প্রেরিত সকল চিঠিতে উল্লেখিত প্রমানের ভিত্তিতে আমার অভিযোগের বিচার চাই, চলচ্চিত্র অনুদান নীতিমালা ও চলচ্চিত্র আইনের আলোকে।

“‘বিলডাকিনি’র চিত্রনাট্য চুরির অভিযোগ মিথ্যা, দাবি প্রযোজকের” শিরোনামে প্রকাশিত অসত্য, অযৌক্তিক এবং ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। উক্ত প্রতিবাদ ছাপানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রত্রিকার পক্ষে থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়নি, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে কোন পক্ষের দাবিতে এই ধরণের একটি সংবাদ প্রকাশ করলে দেশের নাগরিকদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ হবে বলে আমি মনে করছি তাই সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় প্রতিবাদ প্রকাশ করার অনুরোধ করছি।
বিলডাকিনি চলচ্চিত্রের প্রযোজক কর্তৃক মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদ
সুর্নির্দিষ্ঠ অভিযোগের ভিত্তিতে সুর্নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমি গত ৩১ জানুয়ারী, ২০২৪ তারিখে শাহবাগে অবস্থান করে “বিলডাকিনি” চিত্রনাট্য চোরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে শাস্তি চেয়েছি। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আমি অবস্থান কর্মসূচী করেছি, যা জাতীয় গনমাধ্যমসহ দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে “নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীরের বাংলা একাডেমি পুরস্কার বাতিলের দাবি”

শিরোনামে। পরবর্তীতে আমি বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে স্মারকলিপি দিয়েছি। এমতাবস্থায় দুর্নীতিগ্রস্থ অতিরিক্ত সচিব ড. জাহাঙ্গীর আলম ওরফে নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর এর সাফাই গেয়ে আব্দুল মমিন খান গণমাধ্যমে যে, বিবৃতি প্রদান করেছে, সেই বিবৃতির আলোকে উপরে উল্লেখিত গণমাধ্যম যে সংবাদ প্রকাশ করেছে, আমি উক্ত প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *